বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ৮ জিবি র্যামযুক্ত ডিভাইসের। মাল্টিটাস্কিং, গেমিং, ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর নতুন ফিচার ব্যবহারের জন্য এই কনফিগারেশনকে এখন “স্ট্যান্ডার্ড” হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেক ব্যবহারকারী।
বিশেষ করে ২০২৬ সালে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক অ্যাপ ও এআই টুলের ব্যবহার বাড়ায় ৬ জিবি র্যামের ফোন ধীরে ধীরে মিড-লেভেলে নেমে এসেছে। ফলে বাজেট, মিড-রেঞ্জ ও প্রিমিয়াম—সব সেগমেন্টেই এখন ৮ জিবি র্যামের ফোনের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।
দেশের বাজার পরিস্থিতি, বিক্রেতাদের তথ্য এবং ব্যবহারকারীদের আগ্রহ বিশ্লেষণ করে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ১৫টি ৮ জিবি র্যামের স্মার্টফোন নিয়ে এই প্রতিবেদন।
এন্ট্রি-লেভেল ও বাজেট সেগমেন্ট (১৫,০০০ – ২০,০০০ টাকা)
সীমিত বাজেটে যারা ভালো মাল্টিটাস্কিং এবং পর্যাপ্ত স্টোরেজের ভারসাম্য চান, তাদের জন্য এই ক্যাটাগরির ডিভাইসগুলো সাশ্রয়ী সমাধান দিচ্ছে।
১. রিয়েলমি সি৭১ (Realme C71): কম বাজেটে ৮ জিবি র্যামের পাশাপাশি এতে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ ব্রাউজিং ও সামাজিক যোগাযোগের জন্য এটি বেশ জনপ্রিয়।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ১৮,৫০০ টাকা।
২. ইনফিনিক্স হট ৭০ (Infinix Hot 70): আধুনিক নকশা এবং বড় ক্ষমতার ব্যাটারির এই ফোনে ৮ জিবি র্যামের সাথে মিডিয়াটেক প্রসেসর দেওয়া হয়েছে।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ১৮,৯৯৯ টাকা।
৩. অপো এ৩ (Oppo A3): এই বাজেটে অপো তাদের সিগনেচার ‘মিলিটারি-গ্রেড’ ডিউরেবিলিটি বা শক্তিশালী বডি প্রোটেকশন দিচ্ছে, যা ফোনকে আকস্মিক পতনজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ১৯,৫০০ টাকা (৮ জিবি সংস্করণ)।
মিড-রেঞ্জ অলরাউন্ডার (২০,০০০ – ৩০,০০০ টাকা)
চমৎকার ক্যামেরা, শক্তিশালী প্রসেসর ও গেমিং সক্ষমতার কারণে এই সেগমেন্টে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি।
৪. শাওমি রেডমি নোট ১৪ ৫জি (Redmi Note 14 5G): ডাইমেনসিটি প্রসেসর, ওআইএস (OIS) সমর্থিত ৫০ মেগাপিক্সেল প্রধান ক্যামেরা এবং শাওমির নতুন ‘হাইপারওএস’ (HyperOS)-এর কারণে বাজারে এটি বেশ এগিয়ে রয়েছে।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ২২,০০০ টাকা (আনঅফিসিয়াল) / ২৮,count ৫০০ টাকা (অফিসিয়াল)।
৫. আইকিউ জেড১০এক্স ৫জি (iQOO Z10x 5G): গেমারদের জন্য বাজেট-বান্ধব এই ডিভাইসে রয়েছে ডাইমেনসিটি ৭৩০০ প্রসেসর এবং একটি বিশাল ৬,৫০০ এমএএইচ (mAh) ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ২১,৭০০ টাকা।
৬. মটোরোলা মোটো জি৮৬ পাওয়ার ৫জি (Moto G86 Power): যারা বিজ্ঞাপনহীন এবং ক্লিন ‘স্টক অ্যানড্রয়েড’ অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য ৭,০০০ এমএএইচ-এর দানবীয় ব্যাটারি সমৃদ্ধ এই মডেলটি অন্যতম সেরা পছন্দ।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ২৫,০00 টাকা।
৭. ইনফিনিক্স হট ৬০ প্রো প্লাস (Infinix Hot 60 Pro Plus): মিড-রেঞ্জের এই মডেলটিতে ১৪৪ হার্জের আল্ট্রা-স্মুথ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং বিশেষ গেমিং-ডিজাইন আর্কিটেকচার যুক্ত করা হয়েছে।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ২৪,৫০০ টাকা।
৮. অপো রেনো ১২এফ ৪জি (OPPO Reno 12F): প্রিমিয়াম ফ্ল্যাট ডিজাইন এবং ওপ্পো-র বিশেষ পোর্ট্রেট ক্যামেরা ফিচারের কারণে এই মডেলটি নান্দনিক লুক ও ক্যামেরা সচেতনদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ২২,৩৯০ টাকা।
আপার মিড-রেঞ্জ ও প্রিমিয়াম (৩০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা)
উন্নত বিল্ড কোয়ালিটি, কার্ভড ডিসপ্লে প্যানেল এবং ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের প্রসেসিং গতির জন্য এই ক্যাটাগরিটি পরিচিত।
৯. ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৫ ৫জি (OnePlus Nord CE5 5G): ওয়ানপ্লাসের নিজস্ব ‘অক্সিজেন ওএস’ (OxygenOS), মানসম্মত ক্যামেরা এবং দ্রুতগতির ফাস্ট চার্জিংয়ের কারণে এটি একটি সুষম বা ব্যালেন্সড ডিভাইস।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ৩৪,৯৯৯ টাকা।
১০. স্যামসাং গ্যালাক্সি এম৩৫ ৫জি (Samsung Galaxy M35 5G): স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সিনোস ১৩৮০ প্রসেসর, ওআইএস ক্যামেরা ও ৬,০০০ এমএএইচ ব্যাটারির পাশাপাশি এতে রয়েছে চার বছরের ওএস আপডেটের দীর্ঘস্থায়ী নিশ্চয়তা।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ২৪,০০০ থেকে ২৮,০০০ টাকা (স্টোরেজ ভেদে)।
১১. নাথিং সিএমএফ ফোন ২ প্রো (CMF Phone 2 Pro): স্বতন্ত্র ও কাস্টমাইজড ডিজাইনের কারণে এটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। এর ওআইএস ক্যামেরায় ডেডিকেটেড টেলিফোটো লেন্সের সুবিধাও পাওয়া যায়।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ৩২,০০০ টাকা।
১২. অনার ৬০০ লাইট (Honor 600 Lite): অনারের গ্ল্যামারাস প্রিমিয়াম ডিজাইন এবং কার্ভড অ্যামোলেড ডিসপ্লের সাথে ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজের একটি শক্তিশালী কম্বিনেশন।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ৪৪,৯৯৯ টাকা।
হাই-এন্ড ফ্ল্যাগশিপ (৫০,০০০ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব)
টপ-নচ পারফরম্যান্সের জন্য এই ক্যাটাগরির ডিভাইসগুলো সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে ৮ জিবি র্যামেরই সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে।
১৩. গুগল পিক্সেল ৮ (Google Pixel 8): পিওর অ্যানড্রয়েড এবং গুগলের শক্তিশালী এআই কম্পিউটেশনাল ইমেজিংয়ের কারণে এর ৮ জিবি র্যামের পারফরম্যান্স অত্যন্ত নিখুঁত।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ৬০,০০০ থেকে ৬৪,০০০ টাকা।
১৪. স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫৬ ৫জি (Samsung Galaxy A56): প্রিমিয়াম গ্লাস ব্যাক বডি, আইপি৬৭ ওয়াটার ও ডাস্ট রেজিস্ট্যান্স এবং শক্তিশালী প্রসেসর একে আপার-সেগমেন্টে বেশ নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ৫০,৯০০ টাকা।
১৫. আইফোন ১৬ / ১৬ই (iPhone 16 / 16e): অ্যাপল সাধারণত র্যামের পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে প্রচার না করলেও, অন-ডিভাইস ‘Apple Intelligence’ ফিচারগুলো সচল রাখতে এই সিরিজে ৮ জিবি র্যাম দেওয়া হয়েছে। আইওএস (iOS) ইকোসিস্টেমের দারুণ অপ্টিমাইজেশনের কারণে এর কার্যক্ষমতা অনন্য।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ৯৯,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু।




















