চীনা এআই ডেভেলপারের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরি ও রফতানি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের এআই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একদিকে দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা এআই মডেলগুলো নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে, অন্যদিকে এ ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চীনের এআই গবেষণাগার মুনশট। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মুনশটের তৈরি নতুন ‘কিমি কে৩’ মডেলটি মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের উন্নত ‘ফেবল ৫’ মডেল থেকে অনুমতি ছাড়া তথ্য প্রক্রিয়াজাত বা ‘ডিস্টিলেশন’ করেছে। এটি মূলত নতুন মডেল তৈরির খরচ কমাতে অন্য কোনো উন্নত মডেলের আউটপুট ব্যবহারের একটি প্রক্রিয়া। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেছেন, অবৈধভাবে প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
একই সময়ে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ‘ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ মুনশটসহ অন্য চীনা প্রতিষ্ঠান বেআইনি উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সর্বাধুনিক চিপ ব্যবহার করছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে। তবে মুনশটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ উত্তেজনার ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত ওয়াশিংটন-বেইজিং এআই নিরাপত্তা আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরিকল্পিত বৈঠককেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উভয় দেশই এখন প্রযুক্তিকে কৌশলগত সম্পদ ও নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে, ফলে যৌথ নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রযুক্তি গবেষকেরা বলছেন, এআই মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বা ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ অর্জনের এ সময়ে যৌথ নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি করা খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে। অন্যথায় সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কাজে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত বা ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী ইয়োশুয়া বেনজিও। তিনি জানান, উন্মুক্ত মডেলগুলোর সুরক্ষা কমানো খুবই সহজ, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে মার্কিন সরকারের নীতিনির্ধারকরাও চীনা প্রযুক্তি সীমিত করা এবং অবাধ উদ্ভাবন বজায় রাখার দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নিজেদের মধ্যে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।



















