প্রযুক্তি-নির্ভর বাংলাদেশের পথে আরো একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৬-২৭ কর বছর থেকে সব ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই এনবিআর আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের ই-রিটার্ন সেবা চালু করে।
সংস্থাটই জানিয়েছে, সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিলে মিলবে বিশেষ প্রণোদনাও। অর্থাৎ চলতি বছর যারা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দেবেন, তারা মোট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। সেপ্টেম্বরের পর জমা দিলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না, আর ডিসেম্বরের পরে জমা দিলে অতিরিক্ত কর গুনতে হবে।
গত কর বছর (২০২৫-২৬) রেকর্ড ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা এর কার্যকারিতা প্রমাণ করে। এ বছর যারা প্রথমবার ই-রিটার্ন জমা দেবেন, তাদের জন্যই এ প্রস্তুতির তালিকা।
আয়ের খাত চিহ্নিত করুন
রিটার্ন তৈরির প্রথম কাজ হলো আয়ের উৎস চিহ্নিত করা। চাকরিজীবীদের কর্মস্থল থেকে পুরো বছরের বেতনের বিবরণী এবং উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। এ সার্টিফিকেটে সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়া করের চালান নম্বর থাকাটা জরুরি।
বাড়ি ভাড়া বা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে সে সংক্রান্ত আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব তৈরি রাখুন। অন্যান্য যেকোনো উৎস থেকে আয় হলে সেটিরও কাগজপত্র গুছিয়ে নিন।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের কাগজপত্র
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার বিপরীতে সুদ আয় হলে সেই সুদের বিস্তারিত স্টেটমেন্ট এবং উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট নিতে হবে। বেশিরভাগ ব্যাংক এখন ইমেইল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এ সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ডিজিটাল সুবিধা দিচ্ছে, যেমন ইউনাইটেড ফাইন্যান্স তাদের ‘উমা অ্যাপ’র মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় স্টেটমেন্ট ও সার্টিফিকেট ডাউনলোডের সুবিধা দিচ্ছে।
কর রেয়াতের সুযোগ নিন
সঞ্চয়পত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস), শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে দান—এ খাতে নির্দিষ্ট পরিমাণে সরকার কর রেয়াত দিয়ে থাকে। এসব বিনিয়োগের প্রমাণপত্র হাতে রাখুন। কারণ ই-রিটার্নে এগুলো উল্লেখ করলে করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
খরচ ও সম্পদের হিসাব
রিটার্নে আয়ের পাশাপাশি বার্ষিক ব্যয়ের হিসাব দিতে হয়। তাই সারা বছরের উল্লেখযোগ্য ব্যয়গুলো গুছিয়ে রাখুন। গাড়ির আগাম কর থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র রাখুন, যদিও ই-রিটার্নে এ তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুবিধা আছে। ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণ থাকলে বছর শেষে মোট ব্যালেন্স ও কিস্তির পরিমাণ হিসাব করে রাখুন।
ই-রিটার্নের সুবিধাগুলো জানুন
www.etaxnbr.gov.bd পোর্টালে রিটার্ন তৈরি করলে সব হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়। আয়-ব্যয় ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা সহজ হয়ে যায়।
রিটার্ন জমা দিলে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকার ও আয়কর সনদ পাওয়া যায়। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক ট্রান্সফারে কর পরিশোধ করা যাবে। একবার জমা দিলে পরের বছরগুলোয় আগের রিটার্নের তথ্য দেখে কাজ করা আরো সহজ হয়। যেকোনো সাহায্যের জন্য এনবিআরের কল সেন্টারে (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) যোগাযোগ করা যাবে।
সব কাগজপত্র এক জায়গায় গুছিয়ে বসলে রিটার্ন জমা দেয়া আর কঠিন কিছু নয়। সেপ্টেম্বরের আগেই রিটার্ন জমা দিন, প্রণোদনাটুকু পকেটে রাখুন। প্রযুক্তি এসেছে করদাতার জীবন সহজ করতে, তাই এ সুযোগকে কাজে লাগান।




















