জৈবিক মারণাস্ত্র বা বায়োওয়েপন তৈরির গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের চেষ্টা করা কয়েকটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে অ্যানথ্রোপিক। তাদের তৈরি জনপ্রিয় এআই মডেল ‘ক্লড’ ব্যবহার করে বিপজ্জনক গবেষণার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে এ ধরনের তৎপরতা চিহ্নিত করার পর সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানায় সংস্থাটি। খবর সিএনএন ও বিবিসি।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, এআইয়ের অপব্যবহার মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় ঝুঁকি। ৩০ দিনের একটি পর্যবেক্ষণ অভিযানে তারা প্রায় ৩৫টি আলাদা সন্দেহজনক কার্যক্রম চিহ্নিত করেছে। তবে এ কাজগুলোর পেছনে কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য ছিল, নাকি তা শুধুই বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ—সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কাজের সঙ্গে সরাসরি বিজ্ঞানীরা যুক্ত ছিলেন। ভৌগোলিক অবস্থান লুকিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়ে এআই মডেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেন তারা। তার মধ্যে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের ক্ষতিকারক ক্ষমতা বাড়ানোর গবেষণার জন্য তহবিল চেয়ে আবেদন তৈরিতে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। আরেকটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের এক গবেষক বার্ড ফ্লু ভাইরাস কীভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে খাপ খাইয়ে মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এছাড়া গুটিবসন্তের জন্য দায়ী স্মলপক্স, এমপক্স এবং বিভিন্ন প্রাণীর মারাত্মক বিষ নিয়ে গবেষণার চেষ্টা চালানো হয়।
অ্যানথ্রোপিক সতর্ক করে বলেছে, এআইয়ের কারণে এখন বড় কোনো রাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই একজন ব্যক্তি বা ছোট দল জটিল ও ক্ষতিকর প্রযুক্তি তৈরি করতে সমর্থ হচ্ছে। ওষুধ আবিষ্কার এবং চিকিৎসা গবেষণায় এআই দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর দ্বিমুখী ব্যবহারের কারণে তা ক্ষতিকারক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোর সুযোগ থেকে যায়।
জৈব নিরাপত্তা ছাড়াও নজরদারি, প্রতারণা ও ঐতিহ্যবাহী সামরিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টাও প্রতিহত করেছে অ্যানথ্রোপিক। চীনসংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী তিব্বতি বৌদ্ধসহ উইঘুর মুসলিম ও এশিয়ার বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর নজরদারি চালাতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্পর্কিত পক্ষগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরির জন্য ক্লড ব্যবহারের চেষ্টা চালায়।
এ ধরনের ঘটনা এআইয়ের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিক থেকে পদত্যাগ করা গবেষক জেকব কক্সন সতর্ক করে বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির বিকাশ এত দ্রুত ঘটছে যে মানুষ শিগগিরই এর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।’
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নতুন ‘ক্লড ফেবল ৫’ মডেলে আরো কঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যেন বিপজ্জনক জৈব গবেষণায় এটি ব্যবহারের সুযোগ না থাকে। তবে শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়, বড় মডেলগুলোর নিরাপদে ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও সরকারি নজরদারি প্রয়োজন।
গত জুলাইয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ এআইকর্মী প্রযুক্তিটির ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। অ্যানথ্রোপিকও শক্তিশালী এআই মডেল প্রকাশের ক্ষেত্রে শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।




















