অ্যাপলের ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে আসার পর থেকেই এর দাম ও নকশা নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ সংস্করণের পাশাপাশি যারা আরও বিলাসবহুল কিছু চান, তাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাভিয়ার তৈরি করেছে আইফোন ডুওর ‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণ। এর সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ২১ হাজার ৩৪০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৬ লাখ টাকার বেশি।
যুক্তরাজ্যের বাজারে অ্যাপলের আইফোন ডুওর দাম ১ হাজার ৯৯৯ থেকে ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ডের মধ্যে। অর্থাৎ ডিভাইসটির সবচেয়ে দামি সাধারণ সংস্করণের তুলনায় ক্যাভিয়ারের বিশেষ সংস্করণ কিনতে খরচ করতে হবে কয়েক গুণ বেশি। ‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণে মূল আকর্ষণ এর নকশা ও ব্যবহৃত উপকরণ। ক্যাভিয়ার ফোনটির বাইরের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করেছে স্টার্লিং সিলভার। এর ওপর দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত চকচকে পালিশ, ফলে ফোনটির পৃষ্ঠ আয়নার মতো প্রতিফলিত হয়।
ক্যাভিয়ারের দাবি, আইফোন ডুও ভাঁজ করার সময় এবং খুলে দেওয়ার সময় ফোনের আকৃতিতে যে পরিবর্তন আসে, সেখান থেকেই এই বিশেষ সংস্করণের নকশার ধারণা নেওয়া হয়েছে। ভাঁজযোগ্য ফোনটির কাঠামোকে সাধারণ একটি স্মার্টফোনের পরিবর্তে ধাতব ভাস্কর্যের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুরো নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে বাঁকানো ও প্রবহমান রেখা, যা ফোনটির মধ্যে গতিশীলতার অনুভূতি তৈরি করে।
ফোনটি খোলা বা বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে এর বাইরের নকশাতেও ভিন্ন ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে এমনভাবেই নকশাটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্যাভিয়ার। তবে এই বিশেষ সংস্করণ সবার জন্য নয়। ক্যাভিয়ার ‘লিকুইড মেটাল’ আইফোন ডুওর মাত্র ১৭টি ইউনিট তৈরি করেছে। ফোনটির স্টোরেজ যত বেশি, দামও তত বেশি। ২৫৬ জিবি মডেলের দাম ১৮ হাজার ৮৪০ ডলার। ৫১২ জিবি সংস্করণের জন্য দিতে হবে ১৯ হাজার ২০০ ডলার। ১ টেরাবাইট মডেলের দাম ১৯ হাজার ৯১০ ডলার। আর ২ টেরাবাইটের সবচেয়ে দামি সংস্করণটির মূল্য ২১ হাজার ৩৪০ ডলা
অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের বাজারে সাধারণ আইফোন ডুওর সর্বোচ্চ দাম ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড হলেও ক্যাভিয়ারের ২ টেরাবাইট ‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণের দাম ১৬ হাজার পাউন্ডেরও বেশি। ফলে একই ফোনের বিলাসবহুল সংস্করণে খরচের পার্থ্যক্য বেশ বড়।
শুধু আইফোন ডুও নয়, অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের জন্যও বিলাসবহুল সংস্করণ তৈরি করেছে ক্যাভিয়ার। এসব বিশেষ সংস্করণের মোট ৭৬টি ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। নকশা ও ব্যবহৃত উপকরণের ওপর ভিত্তি করে এগুলোর দাম ৭ হাজার ১৩০ ডলার থেকে শুরু করে ৮৮ হাজার ২৯০ ডলার পর্যন্ত।
এই সিরিজের অন্যতম দামি মডেল ‘পালমেট ১৮কে’। ১৮ ক্যারেট সোনা ও হীরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ফোনটির বিশেষ কাঠামো। নকশায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতীকী খেজুরগাছের পাতার আদল। এর ওপর হাতে বসানো হয়েছে শতাধিক হীরা। এমনকি ফোনে থাকা অ্যাপলের লোগোতেও ব্যবহার করা হয়েছে মূল্যবান পাথর।
অ্যাপলের ফোনকে বিলাসবহুল সংস্করণে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাভিয়ারের এটি প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ নকশা ও দুর্লভ উপকরণ ব্যবহার করে আইফোনের একাধিক সংস্করণ তৈরি করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলেও আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের একটি বিশেষ সংস্করণ বাজারে এনেছিল তারা। সেই ফোনে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের বিখ্যাত কালো টার্টলনেক পোশাকের একটি অংশের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল।
অর্থাৎ প্রযুক্তি আর বিলাসিতার সংমিশ্রণে অ্যাপলের জনপ্রিয় ফোনগুলোকে সংগ্রহযোগ্য পণ্যে পরিণত করাই ক্যাভিয়ারের মূল লক্ষ্য। আর নতুন ‘লিকুইড মেটাল’ আইফোন ডুও সেই ধারারই আরও একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।




















