শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সহজ যোগাযোগের সুবিধা দিতে নতুন ফিচার ফোন ‘নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপ’ বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে এইচএমডি (HMD)। প্রথাগত ক্ল্যামশেল বা ফ্লিপ ডিজাইনের এই ফোনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবারের সদস্যদের দূর থেকে ফোন নিয়ন্ত্রণের সুবিধা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থায়।
ফোনটির অন্যতম আকর্ষণ ‘ফ্যামিলি অ্যাসিস্ট’ (Family Assist) সুবিধা। এর মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যরা সহযোগী অ্যাপ ব্যবহার করে দূর থেকেই ফোনের বিভিন্ন সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা চাওয়ার জন্য রয়েছে আলাদা এসওএস (SOS) বাটন।
তবে এখনো ফোনটির আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি এইচএমডি।
দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ফোন
নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপের Family Assist ফিচারের মাধ্যমে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা সহযোগী অ্যাপ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যরা দূর থেকে ফ্লিপ ফোনটি সেটআপ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে এসএমএস কমান্ড ব্যবহার করা হবে, ফলে এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য ফোনটিতে ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে না।
এই সুবিধার মাধ্যমে দূর থেকেই ফোনে নতুন যোগাযোগ নম্বর যুক্ত করা, ভলিউম নিয়ন্ত্রণ, অ্যালার্ম ও রিমাইন্ডার সেট করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যামেরা ও গেমসের মতো নির্দিষ্ট সুবিধাও বন্ধ করে রাখা যাবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পিন-সুরক্ষিত ‘স্কুল মোড’। এই মোড চালু থাকলে ফোনের ব্যবহার সীমিত হয়ে ঘড়ি ও জরুরি কলের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু থাকবে। পাশাপাশি হোয়াইটলিস্ট ব্যবস্থায় আগে থেকে অনুমোদিত নম্বর ছাড়া অন্য নম্বর থেকে কল বা বার্তা গ্রহণ সীমিত করার সুবিধা রয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে এসওএস বাটন
ফোনটির পেছনের অংশে ক্যামেরার নিচে আলাদা একটি শারীরিক SOS বাটন রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে বাটনটি টানা তিন সেকেন্ড চেপে ধরলে পূর্বনির্ধারিত জরুরি নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল যাবে।
একই সঙ্গে আগে থেকে যুক্ত করা সর্বোচ্চ পাঁচজন পরিচিত ব্যক্তির কাছে জিপিএস অবস্থানসংবলিত সতর্কবার্তা পাঠানোর সুবিধাও রয়েছে। শিশু বা বয়স্ক কেউ বিপদে পড়লে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত অবস্থান জানাতে এই সুবিধা কাজে আসতে পারে।
ডুয়াল ডিসপ্লে ও অন্যান্য ফিচার
নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপে রয়েছে দুটি ডিসপ্লে। ভেতরে ২.৮ ইঞ্চির QVGA মূল পর্দা, যেখানে বড় আইকন ও স্পষ্ট ফন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ফোন না খুলেই কলার আইডি ও নোটিফিকেশন দেখার জন্য বাইরে রয়েছে ১.৭৭ ইঞ্চির সেকেন্ডারি ডিসপ্লে।
হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে ফোনটিতে রয়েছে ১ হাজার ৪৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের অপসারণযোগ্য ব্যাটারি, লাউডস্পিকার, সাধারণ মানের QVGA ক্যামেরা, ৪ এমবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, এফএম রেডিও, ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট এবং ৩.৫ মিলিমিটারের হেডফোন জ্যাক।
রঙের ক্ষেত্রে Burgundy Red, Charcoal ও Teal—এই তিনটি সংস্করণের কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ব্যবহারে ২জি নেটওয়ার্ক বড় সীমাবদ্ধতা
ফোনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, এটি কেবল 2G (GSM) নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। ফলে যেসব দেশে বা অঞ্চলে 2G নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়েছে, সেখানে ফোনটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। যেসব এলাকায় 2G সেবা চালু রয়েছে, সেখানেও নেটওয়ার্কের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে এর ব্যবহার।
বাংলাদেশে 2G নেটওয়ার্ক এখনো চালু থাকলেও ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য ফোনটি কেনার আগে নেটওয়ার্ক সমর্থন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
এখনো নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপের দাম ও বাজারে আসার তারিখ ঘোষণা করেনি এইচএমডি। ফলে ফোনটির প্রকৃত বাজারমূল্য এবং বাংলাদেশে পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।





















