স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাকে না জানিয়ে বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত সেবা ‘Dazzle Care’ যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ড্যাজলের (Dazzle) বিরুদ্ধে। ঢাকার বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স শাখা থেকে ফোন কেনার পর এ অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন সাদমান মুহিব (Sadman Muhib) নামের এক ক্রেতা।
ওই ক্রেতার অভিযোগ, ফোনের দাম ও ওয়ারেন্টি সম্পর্কে আলোচনা হলেও অতিরিক্ত সেবা নেওয়ার বিষয়ে তাঁর সম্মতি চাওয়া হয়নি। পরে অনলাইন রসিদ দেখে ফোনের মূল দামের বাইরে ১ হাজার ৭৪৬ টাকা ‘Dazzle Care’ বাবদ যুক্ত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
সাদমান মুহিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর ভাগ্নির জন্য ফোন কিনতে ড্যাজলের বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স শাখায় যান তিনি। সেখানে ‘রেডমি নোট ১৭’ মডেলের ফোন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিক্রেতা তাঁকে ৪জি সংস্করণটি অফিশিয়াল ফোন হিসেবে জানান। ৬ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজের সংস্করণের দাম বলা হয় ৩৩ হাজার টাকা। ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজের সংস্করণটির দাম বলা হয় ৩৭ হাজার টাকা। বিক্রেতা এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার কথাও জানান।
পরে তিনি রেডমি নোট ১৭ ফোরজি (অফিশিয়াল) ফোনটি কেনেন। ক্রেতার দাবি, কেনাকাটার সময় তাঁকে কোনো প্রিন্টেড রসিদ দেওয়া হয়নি। অনলাইনে রসিদ পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়। তখন ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় তিনি রসিদ যাচাই করতে পারেননি। আগে ড্যাজল থেকে ফোন কেনার অভিজ্ঞতা থাকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা রেখে কেনাকাটা করেন।
বাসায় ফিরে অনলাইন রসিদ পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, ফোনের দাম ৩৪ হাজার ৯৯০ টাকা এবং এর সঙ্গে ১ হাজার ৭৪৬ টাকা ‘Dazzle Care’ বাবদ যুক্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত এই সেবা নেওয়ার বিষয়ে বিক্রেতা তাঁকে আগে জানাননি কিংবা সম্মতি নেননি।
ক্রেতার ভাষ্য, তিনি ফোনের দাম জানতে চাইলেও ওই দামের সঙ্গে ড্যাজল কেয়ারের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। অফিশিয়াল ফোন এবং এক বছরের ওয়ারেন্টি বা রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার কথা শুনে তিনি ভেবেছিলেন, অতিরিক্ত কোনো সেবা ছাড়াই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পাচ্ছেন।
অভিযোগ জানানোর পর সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা তাঁকে ফোন করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন সাদমান মুহিব। তাঁর বক্তব্য, ড্যাজল কেয়ার যুক্ত করার বিষয়ে সরাসরি জানানো হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, ‘আসলে স্যার, Dazzle Care আপনাকে ডাইরেক্ট বলা হয়নি, কিন্তু আমি তো বলছি আপনি এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট পাবেন।’
ক্রেতার দাবি, তিনি ড্যাজল কেয়ার বাতিল করতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, বিল হয়ে যাওয়ায় তা আর বাতিল করা সম্ভব নয়। ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপন করার পর ব্যবস্থাপনা থেকে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি বলে অভিযোগ তাঁর।
সাদমান মুহিব বলেন, কেনার আগে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ফোনের দাম যাচাই না করা তাঁর নিজের ভুল ছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত সেবার মূল্য ও শর্ত জানানো এবং ক্রেতার সম্মতি নেওয়ার দায়িত্ব বিক্রেতারও রয়েছে।
এ ঘটনায় স্মার্টফোন কেনার সময় মূল্য, ওয়ারেন্টি এবং অতিরিক্ত সেবার খরচ ভালোভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।






















