যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী গন্তব্যে পৌঁছাতে দ্রুত মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন মোটরসাইকেল। অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করছেন পাঠাও, উবার, বা ইনড্রাইয়ের মতো রাইড শেয়ারিং অ্যাপ। কিন্তু ক্রমেই দেখা যাচ্ছে, যাত্রীরা ভাড়া কম দিতে গিয়ে কিংবা অ্যাপ ব্যবহার এড়াতে বাইকারদের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে উঠছেন বাইকে। আর এখানেই তৈরি হচ্ছে ভয়ানক ঝুঁকি।
এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন ১০টি ঘটনা, যেখানে যাত্রীরা অ্যাপের বাইরে বাইকে ওঠার পর হয়েছেন ধর্ষণ, ছিনতাই, মারধর কিংবা হুমকির শিকার:
উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী
গত জুনে উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী যাওয়ার জন্য সরাসরি চালকের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী নাজমা (ছদ্মনাম)। পথিমধ্যে চালক তাকে অজানা পথ ধরে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগ জানানোর পরও চালককে শনাক্ত করা যায়নি।
গাবতলী—শেওড়াপাড়া
এক সন্ধ্যায় গাবতলী থেকে শেওড়াপাড়ায় যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাসির। চালক হঠাৎই বাইক থামিয়ে দুজন সহযোগীকে উঠিয়ে নেন। পরে তিনজন মিলে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল কেড়ে নেয়।
মিরপুর—ধানমন্ডি
মিরপুর থেকে ধানমন্ডি যাচ্ছিলেন এক নারী উদ্যোক্তা। চালক চলন্ত অবস্থায় আপত্তিকরভাবে গায়ে হাত দিতে থাকেন। ভয় পেয়ে তিনি লাফিয়ে বাইক থেকে নেমে পালান। পরে মানসিক আঘাত থেকে তিনি চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
জিগাতলা—মহাখালী
এক কিশোরী বন্ধুর বাসায় যাওয়ার জন্য জিগাতলা থেকে বাইক নেয়। চালক মাঝপথে তাকে ভয় দেখিয়ে গহনা ছিনিয়ে নেয় এবং কাঁচের গলি ধরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
উত্তরা—বনানী
অফিস ফেরত এক নারী যাত্রীকে চালক আগে বন্ধুত্বের ছলে প্রশ্ন করতে থাকেন, পরে ফোন নম্বর চান। না বলায় ধীরে ধীরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একপর্যায়ে হেনস্তা করেন।
শ্যামলী—বাড্ডা
এক রাতের ঘটনা। বাইকে ওঠার কিছুক্ষণ পরই চালক আচমকা বাইক গলি দিয়ে নিয়ে যান, যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে পিস্তল দেখিয়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেন।
কাওরান বাজার—সায়েন্স ল্যাব
রাত ৯টার দিকে অফিস শেষে বের হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বাইকে ওঠেন। চালক ও তার সহযোগী তাকে গলায় চাকু ধরে নগদ টাকা ও এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেয়।
যাত্রাবাড়ী—গুলিস্তান
চালক চালাকি করে পেছনে লুকানো আরেক সহযোগীকে উঠিয়ে নেয়, এবং পরে যাত্রীকে নির্জন গলিতে ফেলে দিয়ে মোটরসাইকেলসহ পালিয়ে যায়।
বংশাল—গুলশান
এক তরুণী তার বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ড্রাইভারের কাছে পানীয় পান করার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন।
মগবাজার—তেজগাঁও
বাইক থামিয়ে চালক ফোনে কথা বলার ভান করে একজন সহযোগীকে নিয়ে এসে যাত্রীকে ঘিরে ফেলেন। ভীতি ছড়িয়ে মূল্যবান জিনিস রেখে যেতে বাধ্য করেন।
কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ ‘অফলাইন রাইড’?
১. ডিজিটাল ট্র্যাকিং নেই: কোনো অ্যাপ রেকর্ড না থাকায় কার সঙ্গে কখন কোথায় রাইড হয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
২. বিমার আওতায় নয়: দুর্ঘটনা হলে চিকিৎসা বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকে না।
৩. নীতিমালার বাইরে: এসব রাইডসেবায় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বা আইনগত কাঠামোর প্রয়োগ নেই।
৪. ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব: চালক ও যাত্রীর মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দেয়।






















