স্মার্টফোন শিল্পে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সিলিকন ব্যাটারি। গ্রাফাইটভিত্তিক প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় এসব ব্যাটারির শক্তি ধারণক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে ব্যবহারকারী পান দীর্ঘ সময়ের ব্যাটারি লাইফ, দ্রুত চার্জিং সুবিধা এবং আরো স্লিম ডিভাইসের অভিজ্ঞতা। চলতি বছর সিলিকন অ্যানোড ব্যাটারির বাজার ৫৩ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে, যা ২০৩৪ সালের মধ্যে পৌঁছবে ২ হাজার কোটি ডলারে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
স্মার্টফোনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন, পোর্টেবল ইলেকট্রনিকস ও গ্রিড স্টোরেজের মতো ক্ষেত্রে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির চাহিদা বাড়তে থাকায় সিলিকন অ্যানোড ব্যাটারির বাজারে এ উত্থান ঘটছে।
সিলিকন ব্যাটারি উৎপাদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরো দক্ষ ও সাশ্রয়ী করে তুলছে। উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করা, উপকরণের অপচয় কমানো এবং মানবিক ভুল কমানোর মাধ্যমে উৎপাদনদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
এছাড়া মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যাটারির পাতলা প্রলেপ বা সেল অ্যাসেম্বলির ক্ষুদ্রতম ত্রুটিও শনাক্ত করা সম্ভব, যা আগেভাগেই ঠিক করে ব্যয়বহুল পুনঃকার্য এড়াতে সাহায্য করে। ফলে ব্যাটারি উৎপাদনের গতি বাড়ে, খরচ কমে এবং বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে উৎপাদন করা সহজ হয়।
সিলিকন প্রযুক্তি ব্যাটারির আকার না বাড়িয়েও উচ্চক্ষমতা নিশ্চিত করে। ফলে এটি বড় ব্যাটারির মতোই বেশি সময় চার্জ ধরে রাখতে সক্ষম। সামনের বছরগুলোয় নতুন বেশকিছু ফোন এ উন্নত ব্যাটারি নিয়ে আসবে বলে আশা করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে সিলিকন-কার্বন (এসআই-সি) ব্যাটারি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে দুই টেক জায়ান্ট স্যামসাং ও অ্যাপল। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু চীনা নির্মাতারা এরই মধ্যে স্মার্টফোনে এ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে, তাই বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।






















