চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি থেকে আয় ১০ শতাংশ বেড়ে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থের এ সংখ্যা অতীতের যেকোনো দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় সর্বোচ্চ। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক মার্কেট মনিটর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি বেড়েছে কেবল ৩ শতাংশ। যদিও স্মার্টফোনের গড় বিক্রয় মূল্য (এএসপি) বছরে ৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা আবারো বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের গড় মূল্য হিসেবে নতুন রেকর্ড।
২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের স্মার্টফোন বাজারের প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পি জৈন বলেন, ‘বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও বাজারের আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। কারণ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কনীতি শিথিল হওয়ায় উন্নত বাজারগুলোয় প্রিমিয়াম ডিভাইসের চাহিদা বেড়েছে। ফলে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারকরা লাভবান হয়েছে।’
শিল্পি আরো বলেন, ‘প্রিমিয়াম ডিভাইস কেনার হার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে সহজ কিস্তি সুবিধা, পুরনো ফোন দিয়ে নতুন ফোন কেনার সুযোগ এবং বড় বড় ব্র্যান্ডের বড় বড় অফার, ছাড় বা বিজ্ঞাপন।’
স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের মধ্যে অ্যাপলের আয়ের পেছনে আইফোন ১৬ সিরিজের জোরালো চাহিদা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করছেন কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের গবেষণা পরিচালক জেফ ফিল্ডহ্যাক। তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদা বাড়ার সুবিধা পাচ্ছে অ্যাপল।’
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতেই বেশি পরিমাণ ইউনিট সরবরাহ করা হয়েছে, অন্যদিকে আইফোন ১৬ সিরিজের সফলতার কারণে অ্যাপলের জন্য দ্রুতবর্ধনশীল বাজারে পরিণত হয়েছে জাপান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভারতেও অ্যাপলের বিক্রি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী, এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন বিক্রি করেছে স্যামসাং। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটির আয়ও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৪ শতাংশ। স্যামসাংয়ের এ প্রবৃদ্ধির পেছনে আছে নতুন করে বাজারে আনা মিড-রেঞ্জর ‘গ্যালাক্সি এ’ সিরিজের চাহিদা। তাছাড়া প্রিমিয়াম ফোনের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৫ সিরিজ এবং নতুন এস২৫ এজ মডেলের বিক্রি ছিল আশানুরূপ।
জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এএসপি বেড়েছে অপোর (১৪ শতাংশ)। চীনা ব্যান্ডটি এখন প্রিমিয়াম বা দামি ফোনের দিকে বেশি জোর দিচ্ছে। এর মধ্যে আছে রেনো ১৩ সিরিজ ও ফাইন্ড এক্স৮ মডেল।
বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে আরেক চীনা ব্র্যান্ড শাওমি। নানা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও গত প্রান্তিকে ৪ কোটি ২৫ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে কোম্পানিটি। ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের পরই তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে চীনা ব্র্যান্ডটি।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, চলতি বছর স্মার্টফোনের বাজারে দামি ফোনের চাহিদা আরো বাড়বে। ফলে ফোন বিক্রির পরিমাণ যতটা বাড়বে, আয় তার চেয়েও বেশি বাড়বে। পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিযুক্ত স্মার্টফোন ও ফোল্ডেবল ফোনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। এসব ডিভাইস বাজারের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।






















