বাংলাদেশে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলো বহুল পরিচিত ‘আনঅফিসিয়াল হ্যান্ডসেট’ নামে। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু এই হ্যান্ডসেটের কারণেই প্রতিবছর সরকার হারাচ্ছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব। একইসঙ্গে ভুগছে দেশীয় মোবাইল প্রস্তুতকারকরা।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশে হ্যান্ডসেট উৎপাদন কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। জুন মাসে এক মাসেই উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (MIOB) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করে আছে এই ‘গ্রে মার্কেট’। অথচ স্থানীয় কারখানাগুলো দেশের ৯৯ শতাংশ চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা রাখে।
বাজার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন শপিং মল ও চট্টগ্রামের বড় বড় শোরুমে প্রকাশ্যেই চলছে আনঅফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বিক্রি। অ্যাপল, স্যামসাং, মটোরোলার মতো ব্র্যান্ডের বেশিরভাগ মডেলই এসব দোকানে অফিসিয়াল নয়। তুলনামূলক ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কম দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা অনেকে ঝুঁকছেন এসব ফোন কিনতে।
সরকার অবৈধ হ্যান্ডসেট ঠেকাতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম চালু করলেও পূর্ণ বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় চোরাই হ্যান্ডসেটের ব্যবসা বন্ধ হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনবিআর ও বিটিআরসির সমন্বয়হীনতা, কাস্টমস গোয়েন্দা নজরদারির দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব এই অবৈধ ব্যবসা রোধের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্যামসাং বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউটর এক্সেল টেলিকমের নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন টিপু বলেন, “আমাদের বাজারে স্যামসাং হ্যান্ডসেটের প্রায় অর্ধেকই অবৈধভাবে আসা। এর ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও কমছে।”
সিম্ফনি মোবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং MIOB প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া শাহিদ জানান, বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে অবৈধ ফোন। এর মধ্যে অনেক নকল, রিফার্বিশড ও নিম্নমানের হ্যান্ডসেট। এসব ফোন ভোক্তাদের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি দেশের বৈধ শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের জন্যও বড় হুমকি।
স্থানীয় হ্যান্ডসেট নির্মাতারা সরকারের কাছে দ্রুত এনইআইআর সিস্টেম পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা কাস্টমস ও বন্দর পর্যায়ে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিষয়ে কথা বলতে অ্যাপল গেজেট, এসএমএম গেজেট, ড্যাজেল মোবাইল শপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগযোগের চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে ড্যাজেল বাংলাদেশের ওনার দিদারুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। তবে তিনি ২৮ জুলাই থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।






















