ইন্টারনেটে ৮০ শতাংশ ব্যবহারকারী লেখা বা টেক্সট পড়ার তুলনায় ভিডিও দেখা পছন্দ করেন। ২০২৫ সালের মধ্যে ইন্টারনেট ট্রাফিকের ৮২ শতাংশ তৈরি হবে ভিডিওর মাধ্যমে। যেখানে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১০০ মিনিট অনলাইনে ভিডিও দেখবেন। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ লেখা পড়ার চেয়ে ভিডিও দেখাকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়। কারণ ভিডিওতে তথ্য সহজে বোঝা যায়, মনোযোগ ধরে রাখা সহজ এবং গল্প বলার ধরনও বেশি আকর্ষণীয় হয়। ভিডিওতে ছবি, শব্দ ও দৃশ্যের মাধ্যমে সবকিছু স্পষ্টভাবে দেখানো যায়, যা মনে রাখতেও সহজ। এছাড়া ভিডিও দেখা চলাকালীন অন্য কাজ করাও সম্ভব, যা লেখা পড়ার সময় করা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্টের মধ্যে ভিডিও জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম একটি কারণ ‘শর্ট-ফর্ম ভিডিও’। ২০১৩ সালে চালু হওয়া ভাইন প্রথমবারের মতো ৬ সেকেন্ডের লুপিং ভিডিও চালু করে। পরবর্তী সময়ে টিকটকের উত্থান এবং ইনস্টাগ্রাম রিলসের মতো ফিচার শর্ট-ফর্ম ভিডিওকে মূলধারার বিনোদনে পরিণত করেছে। শর্ট ভিডিও সাধারণত ১৫-৬০ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যা দর্শক অল্প সময়েই দেখতে পারে। ১ মিনিটের কম দৈর্ঘ্যের ভিডিও দেখতে মানুষ বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে।
বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান দ্য বিজনেস রিসার্চের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও তৈরি, শেয়ার ও দেখা আরো সহজ করে দিয়েছে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলস ও ইউটিউব শর্টসের মতো প্লাটফর্ম। ফলে এ ধরনের ভিডিওর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। শর্ট ভিডিও প্লাটফর্মের বাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের ভিডিও বাজারের আয়তন ছিল ১৯৭ কোটি ডলার, যা চলতি বছর ২২২ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে বাজারটির আকার বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩৫৫ কোটি ডলারে। এ সময় বাজারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
ডিমান্ডসেইজ বলছে, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের ছোট ভিডিও কনটেন্ট মানুষকে বেশি আকর্ষণ করছে। অন্যদিকে ইউটিউবের বড় ভিডিওগুলো অনলাইনে শেখার জন্য বেশি ব্যবহার হচ্ছে।
শর্ট-ফর্ম ভিডিওর বাজারে টিকটককে নিয়ে ইমার্কেটরের জাসমিন এনবার্গ বলেন, ‘এটি তরুণদের জন্য ইন্টারনেটের কেন্দ্র। এখানেই তারা বিনোদন, খবর, ট্রেন্ড ও শপিং খোঁজে।’
ড. পনসিন সিএনবিসিকে বলেন, ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং ও ছোট ভিডিওগুলো ব্যবহারকারীর মনোযোগ কয়েক সেকেন্ডের জন্য ধরে রাখার জন্য তৈরি করা হয়। আগে বিনোদন বলতে বোঝাত কোনো শো বা গল্পের মাধ্যমে দর্শককে দীর্ঘ সময় ধরে আকৃষ্ট রাখা। এখন এর পরিবর্তে লক্ষ্য হলো সল্প সময়ে ব্যবহারকারীর আগ্রহ ধরে রাখা, যেন অ্যালগরিদম পরবর্তী সময়ে তাদের পছন্দের কনটেন্ট দেখাতে পারে।’
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শর্ট ভিডিও প্লাটফর্ম বাজারে বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইটড্যান্স (টিকটক), মেটা প্লাটফর্মস (ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম), টেনসেন্ট হোল্ডিংস, ইউটিউব, স্ন্যাপসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। শর্ট-ফর্ম ভিডিও মূলত তরুণদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়।
মূলত শর্ট ভিডিও প্লাটফর্মগুলোর প্রসারকে ত্বরান্বিত করছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট। কারণ এটি ভিডিও তৈরি, শেয়ার ও স্ট্রিমিং আগের চেয়ে অনেক সহজ করেছে।






















