তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যকার চিরায়ত ধারণা বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামীণ পরিবারেই এখন মোবাইল ফোনের ব্যবহার বেশি। গ্রামের ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে, যেখানে শহরে এই হার ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিবিএসের ‘ব্যক্তি এবং খানা পর্যায়ে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার জরিপ ২০২৪-২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা মঙ্গলবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। মূলত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাই গ্রামে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন গ্রামে ব্যবহার বেশি?
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন বিজনেসম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিতু ‘সমকাল’কে জানান, গ্রামের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি, যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন এখন একটি অপরিহার্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য গ্রামে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন। এই কারণে গত কয়েক বছরে গ্রামীফেরো ফোনের বাজার ও ব্যবহার দুটোই বেড়েছে।
স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে এগিয়ে শহর
যদিও মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারে গ্রাম এগিয়ে, তবে স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে এখনও শহরের পরিবারগুলোই আধিপত্য ধরে রেখেছে।
স্মার্টফোন: শহরের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন থাকলেও গ্রামে এই হার ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।
কম্পিউটার: গ্রামে কম্পিউটার ব্যবহার এখনো অনেক কম, মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। শহরে এই হার ২১ দশমিক ৯ শতাংশ।
ইন্টারনেট: গ্রামের ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও শহরে এই হার ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
সারাদেশে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার
জরিপ অনুযায়ী, সারাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
ইন্টারনেট: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরে ব্যবহারকারী বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
স্মার্টফোন: পরিবারের স্মার্টফোন ব্যবহার ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ব্যক্তিগত ব্যবহার: ব্যক্তি পর্যায়ে দেশের ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, যার মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশের নিজস্ব ফোন রয়েছে। ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
জরিপে আরও একটি ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে নারী-পুরুষের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমছে। দেশে যেখানে ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, সেখানে নারীদের ব্যবহারের হার ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা প্রায় কাছাকাছি।






















