এক বছরের ব্যবধানে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আইসিটি উন্নয়ন সূচকে (আইডিআই) ৫ শতাংশ এগিয়ে বাংলাদেশের স্কোর এখন ৬৪ দশমিক ৯। ২০২৪ সালে সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিলো ৬২.০। ২০২২ সালে সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী,আইডিআই ২০২৪-এ ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬১ দশমিক ১। তখন ১৭০ দেশের মধ্যে সূচকে বৈশ্বিক গড় স্কোর ছিলো ৭৪ দশমিক ৮। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে গড় স্কোর ছিলো ৬৪ দশমিক ৮।
আর ২০২৫ সালে এসে ১৬৪ দেশের আইসিটি পরিষেবার অগ্রগতি পর্যালোচনায় সূচকে বাংলাশের বৈশ্বিক গড় স্কোর হয়েছে ৭৮। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলো গড় স্কোর ৬৬।
দেশে ৪৪ দশমিক ৭ শতাং জনসংখ্যা কমপক্ষে ৩জি মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ জনসংখ্যা কমপক্ষে ৪জি/এলটিই মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় উচ্চ কভারেজ থাকা, উল্লেখযোগ্য মোবাইল ব্রডব্যান্ড অনুপ্রবেশ, সক্রিয়ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের অনুপাত বৃদ্ধির কারণে এই উন্নতি বলে দেখিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ)।
‘সর্বজনীন সংযোগ’ ও ‘অর্থবহ সংযোগ’-কে প্রাধান্য দিয়ে ১৬৪ দেশের আইসিটি পরিষেবার ২০২৩ সালে সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (আইডিআই) ২০২৫ সূচকটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। পরিবারপ্রতি ইন্টারনেটের ব্যবহারের হার ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ, প্রতি ১০০ জনে মুঠোফোন ইন্টারনেটের ব্যবহারের হার ৬২ শতাংশ।
এছাড়াও গ্রাহক প্রতি বছরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের সূচকেও অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সাবস্ক্রিপশন প্রতি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ট্র্যাফিক স্কোর ১১৮১ দশমিক ৬ জিবি। মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের শতাংশ হিসাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বাস্কেট মূল্য স্কোর ১ দশমিক ৪ যেখানে মোবাইলের স্কোর ১ দশমিক ৭। প্রতি ১০০ জনে ব্রডব্যান্ডে ইন্টারনেটের ব্যবহারের হার ৪১ দশমিক ৩শতাংশ। গ্রাহক প্রতি ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের ট্র্যাফিক সাবস্ক্রিপশন হার ৭৬ দশমিক ৮ জিবি। আর একজন গ্রাহকের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় ব্রডব্যান্ডের জন্য ব্যয় স্কোর ৯৮ দশমিক ৭।
সূচকের হিসাবে বাংলাদেশের স্কোর নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের গড় স্কোরের চেয়ে কম—৬৪ দশমিক ৯। এই স্কোর এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর গড় স্কোরের চেয়েও কম। গত বছরের (২০২৪) সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬২। আর ২০২৩ সালে তা ছিল ৬১ দশমিক ১। অর্থাৎ এ বছরের সূচকে বাংলাদেশের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
সূচকে প্রতিবেশীসহ সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে এবারো নেই ভারতের নাম। বরাবরের মতো মিয়ানমার (স্কোর ৬৯ দশমিক ৭), শ্রীলঙ্কা (৭১ দশমিক ৪), মালদ্বীপ (৮১ দশমিক ৭), ভিয়েতনাম (৮৬) এবং ভুটানকে (৮৫ দশমিক ৭) ছাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।






















