অ্যাপল তাদের বহুল আলোচিত ভিশন প্রো হেডসেট প্রকল্পের পরবর্তী সংস্করণ আপাতত স্থগিত করে দৃষ্টি দিচ্ছে স্মার্ট গ্লাস প্রযুক্তির দিকে। ব্লুমবার্গ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ভিশন প্রোর হালকা ও সাশ্রয়ী সংস্করণ (কোডনেম N100), যা ২০২৭ সালে বাজারে আসার কথা ছিল, সেই প্রকল্পে কাজ স্থগিত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে কোম্পানি স্মার্ট গ্লাস উন্নয়নে মনোযোগ বাড়াচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই প্রকল্পে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ও গবেষকদের সেই কাজে সরিয়ে নিয়েছে।
ভিশন প্রোর সীমাবদ্ধতা
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩,৪৯৯ ডলারের ভিশন প্রো বাজারে আসে। কিন্তু এর উচ্চমূল্য, সীমিত চাহিদা এবং মেটার সাশ্রয়ী হেডসেটসহ প্রতিযোগিতার চাপের কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি। তাই অ্যাপল কৌশল পরিবর্তন করে এখন নতুন বাজার ধরার চেষ্টা করছে।
অ্যাপলের স্মার্ট গ্লাস পরিকল্পনা
বর্তমানে অ্যাপল দুটি সংস্করণের স্মার্ট গ্লাস নিয়ে কাজ করছে।
প্রথম সংস্করণ (কোডনেম N50): এতে বিল্ট-ইন ডিসপ্লে থাকবে না। এটি আইফোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করবে। আগামী বছরেই এই সংস্করণের ঝলক দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে, আর ২০২৭ সালে বাজারে আসতে পারে এটি।
দ্বিতীয় সংস্করণ: এতে থাকবে বিল্ট-ইন ডিসপ্লে। ২০২৮ সালে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিযোগিতার কারণে এটি আরও আগে আনার চেষ্টা করছে অ্যাপল।
এই গ্লাস মূলত ভয়েস ইন্টার্যাকশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর ওপর নির্ভর করবে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এআই-তে কিছুটা পিছিয়ে থাকা অ্যাপল এখন প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও মেটাকে টক্কর দিতে চাইছে।
মেটার অগ্রগতি
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী মেটা ইতিমধ্যেই বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সিইও মার্ক জাকারবার্গ ৮০০ ডলারের স্মার্ট গ্লাস উন্মোচন করেন, যাতে ছিল বিল্ট-ইন ডিসপ্লে ও নতুন ধরনের রিস্টব্যান্ড কন্ট্রোলার। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য ওকলি-ব্র্যান্ডের ভ্যানগার্ড গ্লাসও এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব উদ্যোগের ফলে মেটা দ্রুত গ্রাহকভিত্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যদিও অ্যাপল এখনো তাদের স্মার্ট গ্লাস বাজারজাতকরণের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেনি, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে কোম্পানির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এআই-চালিত টুলসকে কত দ্রুত দৈনন্দিন ডিভাইসে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তার ওপর। মেটার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অ্যাপলকে এআই ইন্টিগ্রেশনে এগিয়ে আসতেই হবে।






















