অনেক সময় না জেনেই এমন কিছু কাজ করা হয়, যা ধীরে ধীরে কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে বা এর আয়ুষ্কাল কমিয়ে ফেলে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পকেট-লিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাউজার খোলা রাখা, কম্পিউটার রিস্টার্ট না দেয়া বা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার না করার মতো সাধারণ কিছু ভুল পিসিতে দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আজকের আলোচনায় এমন তিনটি অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হলো, যা এড়িয়ে চললে কম্পিউটার হবে আরো দ্রুত ও টেকসই—
সবসময় ওয়েব ব্রাউজার চালু রাখা
পিসিতে দৈনন্দিন কাজের বড় অংশই এখন ওয়েবে সম্পন্ন হয়। তাই অনেকেই সুবিধার জন্য ব্রাউজার সবসময় চালু রাখেন। কিন্তু পকেট-লিন্টের মতে, এটি কম্পিউটারের মেমোরি বা র্যাম দ্রুত খরচ করে ফেলে। বিশেষ করে গুগল ক্রোমের মতো ব্রাউজার বেশি মেমোরি নেয়। মাত্র নয়টি ট্যাব খোলা থাকলেও ক্রোম প্রায় ৬ দশমিক ৫ গিগাবাইট র্যাম ব্যবহার করে। ফলে যদি কম্পিউটারে ১৬ গিগাবাইট বা তার কম র্যাম থাকে, তবে অন্য অ্যাপ যেমন ফটোশপ বা ভিডিও গেম চালাতে সমস্যা হতে পারে।
রিস্টার্ট বা শাটডাউন না দেয়া
অনেকে কাজ শেষে কম্পিউটার ‘স্লিপ’ মোডে রাখেন, যা খারাপ নয়। তবে একেবারেই রিস্টার্ট বা শাটডাউন না দিলে তা কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহে অন্তত একবার রিস্টার্ট দিলে সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন হয় এবং ক্যাশে বা মেমোরি পরিষ্কার থাকে, ফলে গ্লিচ বা হ্যাংয়ের ঝুঁকি কমে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার না করলে সম্পূর্ণ শাটডাউন করে রাখা ভালো। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং যন্ত্রাংশের আয়ু কিছুটা বাড়ে।
ফ্যান বা পোর্ট পরিষ্কার না করা
ধুলাবালি কম্পিউটারের অন্যতম বড় শত্রু। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএসবি বা ভিডিও পোর্টে ধুলা জমলে চার্জিং বা ডাটা ট্রান্সফারে সমস্যা হয়। আবার ফ্যান বা মাদারবোর্ডে ধুলা জমলে তাপ বেড়ে যায়, যা কার্যক্ষমতা কমায় ও যন্ত্রাংশ নষ্ট করতে পারে। তাই বছরে অন্তত দুই-একবার কম্পিউটার পরিষ্কার করার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে এ সময় অবশ্যই কম্পিউটার বন্ধ ও আনপ্লাগ করে নিতে হবে। ক্যান করা বাতাস বা কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করতে হবে সোজা অবস্থায় এবং যন্ত্রাংশ থেকে অন্তত দুই ইঞ্চি দূর থেকে হালকা ফুঁ দিতে হবে।
এছাড়া আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস হলো গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের ব্যাকআপ না রাখা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব ফাইল হারালে ক্ষতি হবে, সেগুলো শুধু মূল ড্রাইভে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকআপ নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় ক্লাউড স্টোরেজ ও এক্সটারনাল ড্রাইভ দুটোতেই সংরক্ষণ করলে।






















