চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা তার দ্বিতীয় ক্লাউড ডেটা সেন্টার খুলেছে দুবাইয়ে। প্রথম সেন্টারটি চালুর ৯ বছর পর এটি তৈরি করা হলো। বিশ্বব্যাপী ক্লাউড সেবার চাহিদা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আলিবাবা ক্লাউড কোম্পানির ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই বিভাগ জানিয়েছে, নতুন ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন আলিবাবার তিন বছরের ৩৮ হাজার কোটি ইউয়ান (প্রায় ৫৩ হাজার কোটি ডলার) বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। তবে ডেটা সেন্টারের আর্থিক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
আলীবাবা ক্লাউড ইন্টারন্যাশনালের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আলিবাবা ক্লাউড ইন্টেলিজেন্সের আঞ্চলিক জেনারেল ম্যানেজার এরিক ওয়ান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত এআই গ্রহণের সক্ষমতা এবং সহযোগিতামূলক পরিবেশ উভয় দিকের কোম্পানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এআইতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। মে মাসে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী, দেশটি এনভিডিয়া ও ওপেনএআইসহ প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় এআই ক্যাম্পাস তৈরি করছে। এটি ইউএইয়ের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও শক্তিশালী করতে চাইছে।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চীন ইউএইয়ের মাধ্যমে অ্যাডভান্সড সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।
দুবাইয়ে জিআইটিইএক্স বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও এআই প্রদর্শনীতে আলিবাবা ক্লাউড বিভিন্ন খাতের কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবু ধাবি সমর্থিত ডিজিটাল ব্যাংক উইও ব্যাংক। অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্থানীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে এআই দ্রুত প্রসারিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলিবাবা ক্লাউডের সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যকে বৈশ্বিক এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। নতুন ডেটা সেন্টার ব্যবসা ও সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরকে সমর্থন করবে এবং আলিবাবার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি আরো শক্তিশালী করবে।






















