বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগামী তিন বছরে অনলাইন-ভিত্তিক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবেলায় ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান মার্কেটিং এবং সাইবার সিকিউরিটি বাজেটের ১০ শতাংশ যাবে ভিত্তিহীন ও অপতথ্য ঠেকাতে। বৈশ্বিক শিল্প খাতের গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি বলছে, অনলাইনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গার্টনারের ‘ওয়ার্ল্ড উইথআউট ট্রুথ’ বইয়ে লেখকরা উল্লেখ করেছেন, মিথ্যা তথ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি এর সুনাম বা বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে। তাই পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে সব শীর্ষ নির্বাহীদের এ হুমকি মোকাবেলা করা উচিত।
গার্টনারের এক জরিপে গত বছর ডিসেম্বরে ২০০ জন জ্যেষ্ঠ ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তি কর্মকর্তাকে অনলাইন-ভিত্তিক ‘মিথ্যা তথ্য’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জরিপে ৭২ শতাংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভ্রান্তিমূলক ও ক্ষতিকর তথ্য তাদের এক্সিকিউটিভ কমিটির জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয়। ভুল তথ্য প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ও নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষক অ্যান্ড্রু ফ্র্যাংক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলে। মানুষ যা পড়ে, দেখে বা শুনে তার ওপর বিশ্বাস রাখতে না পারলে মানুষ কীভাবে সমাজকে জলবায়ু পরিবর্তন বা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যা বোঝাবে? কোম্পানি কীভাবে গ্রাহক, কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক বজায় রাখবে?’
গার্টনারের বিশেষজ্ঞ ডেভ অ্যারন বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ভুল বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের হুমকি বাড়ছে, যা সামনেও চলমান থাকবে। এআই ব্যবহার করে তৈরি উন্নত নকল কনটেন্ট, মানুষের আচরণ বোঝার বিজ্ঞান এবং ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে হুমকি আরো জটিল ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করে এর প্রভাব কমাতে ও নতুন হুমকির পথ শনাক্ত করতে পারে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুক, এক্স বা টিকটকের মতো প্লাটফর্মে যেকোনো সত্য তথ্যের চেয়ে মিথ্যা ও উত্তেজনামূলক তথ্য দ্রুত ছড়ায়। এসব ভুল তথ্য রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক নেতিবাচক মনোভাব বাড়ায়। এছাড়া চ্যাটজিপিটি, জেমিনির মতো জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলো প্রায়ই ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয় বলেও উঠে এসেছে একাধিক গবেষণায়।
ফ্র্যাংক বলেছেন, ‘মিথ্যা তথ্য মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবসময়ই ছিল, তবে বর্তমানে তিনটি মূল কারণ একে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এক. ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কনটেন্ট মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দুই. জেনারেটিভ এআই দিয়ে বাস্তবসম্মত কথোপকথন, ডিপফেক ছবি, অডিও ও ভিডিও তৈরি করতে পারা। তিন. এআই ব্যবহার করে এমন বার্তা তৈরি করা যা ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেয়ার ধরন ও কার্যকলাপে পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার আরেকটি বড় কারণ সোশ্যাল মিডিয়া। সমস্যা আরো বড় হয়ে যায়, যখন ব্যবহারকারীরা কনটেন্টের সত্যতা যাচাই বা বিশ্লেষণ না করে তা সহজে গ্রহণ ও শেয়ার করে, ফলে মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়ায়।






















