দেশের নিরাপত্তা ও রাজস্ব খাতের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা অবৈধ, ক্লোন ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধের বিষয়ে বহুল প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে যাচ্ছে আগামীকাল (বুধবার, ২৯ অক্টোবর)।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) যৌথভাবে এই বিষয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ও সময়সীমা তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থাটি পুরোদমে চালুর একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ (সম্ভবত ডিসেম্বর বা জানুয়ারি) ঘোষণা করা হতে পারে। এই পদক্ষেপটি দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, বিশেষ করে অনলাইন জুয়া, আর্থিক জালিয়াতি (ফ্রড) ও আইডি-ফ্রড বন্ধ এবং বছরে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগটি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনবার অবৈধ ফোন বন্ধের মূল ফাংশন চালুর পদক্ষেপ নিয়েও একটি শক্তিশালী ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেটের’ চাপে বিটিআরসি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। এই সিন্ডিকেটটি চোরাকারবারি, আমদানিকারক এবং আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশ নিয়ে গঠিত বলে অভিযোগ রয়েছে, যারা এই অবৈধ বাজার থেকে বছরে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ কারণে, আগামীকালকের এই ঘোষণাটি বর্তমান সরকারের, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি কি পারবেন সেই সিন্ডিকেটের কলকাঠি ভেঙে এই রাষ্ট্রীয় সংস্কারটি বাস্তবায়ন করতে? – এই প্রশ্নই এখন সবার মুখে।
বিটিআরসি’র শীর্ষ নেতৃত্ব এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, অবৈধ ‘গ্রে’ মার্কেটের ফোন বন্ধ করে দিলে দেশে স্মার্টফোনের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্মার্টফোনকে ‘সাশ্রয়ী’ রাখা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামীকালের এই ঘোষণা নিছক একটি প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা নয়, বরং এটি অপরাধী চক্র এবং তাদের রক্ষাকারী সেই ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছারও একটি অগ্নিপরীক্ষা।






















