কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড সেবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে মাইক্রোসফট। এ লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ডাটা সেন্টারের সংখ্যা দ্বিগুণ করবে বলে জানিয়েছেন সফটওয়্যার জায়ান্টটির সিইও সত্য নাদেলা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এআই দৌড়ে শীর্ষে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মাইক্রোসফট। তাই এ প্রযুক্তির জন্য ব্যবহৃত সার্ভার, ডাটা সেন্টার ও কম্পিউটিং শক্তি আগের তুলনায় আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। নাদেলার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু চলতি বছরেই মাইক্রোসফট নিজের এআই সক্ষমতা বাড়াবে ৮০ শতাংশের বেশি।
২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় ১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে। একই সঙ্গে মুনাফা ২৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মাইক্রোসফটের ক্লাউড ও এআই ব্যবসার সফলতা এ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা হিসেবে কাজ করেছে। যদিও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো এআই প্রযুক্তি থেকে সরাসরি মুনাফা দেখতে পাচ্ছে না। তবু ডাটা সেন্টার অবকাঠামোর চাহিদা বাড়তে থাকায় উপকৃত হচ্ছে মাইক্রোসফটসহ অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণের দিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আগামীতে এআই প্রযুক্তি বিকাশের জন্য সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্ক পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে শীর্ষ কোম্পানিগুলো। যেমন মাইক্রোসফটের অ্যাজুর প্লাটফর্ম এরই মধ্যেই বিশ্বের ৭০টি অঞ্চলে প্রায় ৪০০টি ডাটা সেন্টার পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাইক্রোসফটের ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গুগল ও অ্যামাজনের মতো অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে মিলে যায়। এআইয়ের চাহিদা বাড়ায় গত কয়েক বছরে ডাটা সেন্টার অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করছে বেশির ভাগ কোম্পানি।
যেমন ২০১৯ সালে ওপেনএআইয়ে মাইক্রোসফটের ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ; ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অবকাঠামোয় মেটার হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ও গুগল ক্লাউডের সঙ্গে ১ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি ইত্যাদি।
এভাবে প্রযুক্তি খাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ডাটা সেন্টার, যা ক্লাউড সফটওয়্যার থেকে উন্নত মেশিন লার্নিং মডেল পর্যন্ত সবকিছুর ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
তবে টেক জায়ান্টদের ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা একদিকে যেমন এআই খাতে সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করছে।
কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৪০ শতাংশ এআই ডাটা সেন্টারের কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে। এআই ও জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে এ সমস্যা আরো তীব্র হবে। একই সঙ্গে ডাটা সেন্টারগুলো ঠাণ্ডা রাখতে প্রচুর পানির ব্যবহার হয়।
গবেষণা বলছে, এক মেগাওয়াটের ছোট ডাটা সেন্টার বছরে ২৬০ লাখ লিটার পানি ব্যবহার করতে পারে, যা প্রায় ৬২টি পরিবারের মোট বার্ষিক পানি ব্যবহারের সমান। ফলে ডাটা সেন্টারে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ একসময় বিশ্বব্যাপী পানির সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






















