২০২৩ সালের শেষ দিকে বাজারে আসার পর দুই বছরেরও কম সময়ে বিশ্বব্যাপী জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) সক্ষম স্মার্টফোনের বিক্রি ৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ফল অনুযায়ী, এ সময় বিক্রির ৭০ শতাংশজুড়ে ছিল অ্যাপল ও স্যামসাং। কোম্পানিটি দুটি হাই-এন্ড ফোনের বাজারে শীর্ষস্থানে রয়েছে। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি বলছে, জেনএআই স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা এখন শুধু প্রিমিয়াম ফোনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মিড-এন্ড ও হাই-এন্ড ফোনের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে মূলত চীনা ব্র্যান্ডগুলো।
সম্প্রতি ২৫ কোটির বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ওএস আপডেট পেয়েছেন। এ হালনাগাদের ফলে ডিভাইসে সীমিত পরিসরে জেনএআই ফিচার যোগ করেছে, যেমন লেখার সহায়তা, ছবি সম্পাদনা ও কনটেন্ট সংক্ষিপ্তকরণ। তবে জেনএআইয়ের সম্পূর্ণ সুবিধা এখনো নতুন হাই-এন্ড স্মার্টফোনগুলোয়ই সীমাবদ্ধ। কারণ উন্নত এআই-নির্ভর কাজের জন্য বেশি মেমোরি প্রয়োজন।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী বিক্রীত স্মার্টফোনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশে থাকবে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। ৪০ কোটি ইউনিটের বেশি ডিভাইস ২০২৫ সালে জেনএআই নিয়ে স্মার্টফোনের বাজারে আসবে। তবে শুধু স্মার্টফোন নয়, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শিল্পে জেনএআই ব্যবহারের হার ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জেনএআই স্মার্টফোন নিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগ্রহ ও ধারণা অনেক বেড়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এসব ফোন সম্পর্কে অবগত। এর পেছনে অন্যতম কারণ প্রিমিয়াম ফোনের পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যের ডিভাইসেও দ্রুত জেনএআই ফিচার যুক্ত করা।
জেনআই স্মার্টফোনের বিক্রি ২০২৬-এর তৃতীয় প্রান্তিকে ১০০ কোটি ছাড়াবে বলে প্রত্যাশা করছে কাউন্টারপয়েন্ট। পাশাপাশি ২০২৬ সালের শেষ অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে জেনএআই স্মার্টফোন আরো সাশ্রয়ী হবে এবং বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছবে। বিশেষত চীনা ব্র্যান্ড যেমন ভিভো, অপো, শাওমি ও অনর মিড রেঞ্জ স্মার্টফোনে জেনএআই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করবে।






















