বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৯০ কোটি ছাড়িয়েছে। বিশ্বের মোট স্মার্টফোনের তিন-চতুর্থাংশই এখন অ্যান্ড্রয়েডে চলছে। শুধু গত বছরেই ১০০ কোটির বেশি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যান্ড্রয়েড প্রথম বাজারে আসে ২০০৮ সালে। তবে অপারেটিং সিস্টেমটির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় ২০১১ সালে। এক বছর পর ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় ৫০ কোটিতে। তবে অ্যান্ড্রয়েড বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত হয় ২০১৪ সালে। ওই সময় অ্যাপলের আইওএসসহ প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্লাটফর্মকে পেছনে ফেলে দেয় এটি।
চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের বাজারে প্রায় ৭২ দশমিক ৫৫ শতাংশ হিস্যা রয়েছে অ্যান্ড্রয়েডের দখলে। অন্যদিকে অ্যাপলের আইফোনের হিস্যা প্রায় ২৭ শতাংশের কিছু বেশি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ভারত, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বাজারে অ্যান্ড্রয়েডের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। এসব দেশে স্মার্টফোন বাজারের ৮৫ শতাংশের বেশি দখলে রেখেছে এটি। তুলনামূলকভাবে কম দামের নানা মডেলের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড সহজলভ্য হওয়ায় এসব অঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, এর পরের অবস্থানে রয়েছে চীনের শাওমি ও অপো।
বিজনেস অব অ্যাপসের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত এ অ্যান্ড্রয়েড তৈরি হয় অ্যান্ডি রুবিনের হাত ধরে। তিনি আইফোন ও পাম ওএসের বিকল্প হিসেবে একটি ওপেন-সোর্স প্লাটফর্ম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে আসেন বাজারে। ২০১০-এর দশকের শুরুতেই অ্যান্ড্রয়েড দ্রুতই মোবাইল নির্মাতাদের প্রিয় অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত হয়।
অ্যান্ড্রয়েড জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়িয়েছে গুগল। শুরুতে বিভিন্ন ফোন নির্মাতা নিজেদের মতো করে প্লাটফর্মটি কাস্টমাইজ করতে পারলেও সময়ের সঙ্গে গুগল বাধ্যতামূলক সেবা ও শর্ত বাড়িয়েছে। ফলে নিজেদের অ্যাপসের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যান্ড্রয়েডের ইতিহাস শুরু হয় প্রথম আইফোন চালু করার অনেক বছর আগে, ২০০৩ সালের অক্টোবরে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো আল্টোতে রিচ মাইনার, নিক সারস, ক্রিস হোয়াইট ও অ্যান্ডি রুবিন মিলে অ্যান্ড্রয়েড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২০০৭ সালে প্রথম আইফোন চালু করে মোবাইল প্রযুক্তিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করে অ্যাপল। তখনো গুগল অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কাজ করছিল। পরের বছর প্রথম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন টি-মোবাইল জি১ (বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এইচটিসি ড্রিম নামে পরিচিত) ঘোষণা করা হয় এবং অক্টোবরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উন্মোচন হয়। ফোনটিতে ৩ দশমিক ২ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন এবং স্লাইড আউট কিউওয়ার্টি কিবোর্ড ছিল। নকশা বিশেষভাবে চমকপ্রদ না হওয়ায় প্রযুক্তি দুনিয়ায় বেশ সমালোচনাও হয় ডিভাইসটি নিয়ে। তাছাড়া সে সময়ে অন্যান্য ফোনের মতো এতে স্ট্যান্ডার্ড ৩ দশমিক ৫ মিমি হেডফোন জ্যাকও ছিল না।






















