চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি হয়েছে ২০৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছে ৬৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সেমিকন্ডাক্টর। এ অংক ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২৫ দশমিক ১ শতাংশ ও চলতি বছরের আগস্টের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এসআইএ। অর্থাৎ প্রায় সব মার্কিন চিপ কোম্পানি এ সংগঠনের সদস্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব আন্তর্জাতিক চিপ কোম্পানি আছে, সেগুলোর মধ্যেও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৬৬ শতাংশ) এসআইএর অন্তর্ভুক্ত বা এদের সঙ্গে যুক্ত।
এসআইএর সভাপতি ও সিইও জন নিউফার বলছেন, ‘বাজারের এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ বিভিন্ন ধরনের সেমিকন্ডাক্টরের, বিশেষ করে মেমোরি ও লজিক চিপের চাহিদা বৃদ্ধি। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ও আমেরিকা মহাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।’
ওয়ার্ল্ড সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো ও ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগের ফলে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় রেকর্ড ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)।
আধুনিক প্রযুক্তির মূল চাবিকাঠি হলো সেমিকন্ডাক্টর। কম্পিউটার প্রসেসর, স্মার্টফোনের চিপ, ক্যামেরার সেন্সরসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসই এর ওপর নির্ভরশীল। ট্রিলিয়ন ডলারের শিল্পটি বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে দেশ সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, তারা সামরিক, মহাকাশ ও এআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (জেন এআই), ফাইভজি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও এজ কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তিগুলো উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডাটা সেন্টার চিপ এখন সেমিকন্ডাক্টর বাজারের সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধির উৎস হিসেবে পরিচিত। খাতটির আয় বাড়ছে মূলত এআই অবকাঠামো, দ্রুততর কম্পিউটিং ও ডাটা সেন্টার নেটওয়ার্কিংয়ের চাহিদা বাড়ার কারণে।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকইনসাইটসের তথ্যানুযায়ী, আগামী এক দশকে বাজারটির আকার বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। এ প্রবৃদ্ধির মূল প্রভাবক হবে এআই, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন এবং পুরনো ফোন ও ডিভাইস বদলে নতুন কেনার প্রবণতা।
আইডিসির পূর্বাভাস বলছে, ক্লাউড সেন্টার ও অন্যান্য বিশেষায়িত শিল্পের অগ্রগতির ফলে চলতি বছর সেমিকন্ডাক্টর খাতের আকার ১৫ শতাংশ বাড়বে।






















