বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো পরিষেবা বাজারের আকার চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রায় ১০৭ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অর্থের এ অংক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি আগের প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) তুলনায় গত প্রান্তিকে বাজারটির সম্প্রসারণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ। বাজার গবেষণা সংস্থা সিনার্জি রিসার্চ গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর বিজনেস ডে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের প্রান্তিকের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বরে ক্লাউড অবকাঠামো বাজারের আকার ৭৫০ কোটি ডলার বেড়েছে, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। টানা আট প্রান্তিক ধরে বাজারটিতে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।’
সিনার্জি রিসার্চ গ্রুপের প্রধান বিশ্লেষক জন ডিন্সডেল বলেন, ‘ক্লাউডের বাজারে এবার এক প্রান্তিক থেকে আরেক প্রান্তিকে রেকর্ড-ব্রেকিং প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। শীর্ষ ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো সবই শক্তিশালী ফলাফল দেখিয়েছে। বিশেষ করে চীনা বাজারে চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।’
তিনি জানান, জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) বর্তমানে ক্লাউড অবকাঠামো বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। জিপিইউ এজ আ সার্ভিস (জিপিইউ এএস) থেকে বার্ষিক হিসাবে আয় বেড়েছে ২০০ শতাংশেরও বেশি।
ক্লাউড অবকাঠামো প্রযুক্তি হলো একটি ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন ডাটা এবং অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা করতে সাহায্য করে। ব্যবহারকারীরা এখানে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ, কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং নেটওয়ার্কিং সেবা ব্যবহার করতে পারে। এজন্য কোনো ভৌত সার্ভার বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হয় না।
ক্লাউড পরিষেবার বাজারে ২৯ শতাংশ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে আছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস)। এরপর মাইক্রোসফট অ্যাজুর ২০ ও গুগল ক্লাউড ১৩ শতাংশ হিস্যার অংশীদার। তবে আয়ের দিক থেকে এডব্লিউএস শীর্ষে থাকলেও মাইক্রোসফট ও গুগলের প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
দ্বিতীয় সারির ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে কোরওয়েভের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে সিনার্জি রিসার্চ। দুই বছর আগে প্রায় শূন্য থেকে শুরু করা কোম্পানিটি এখন প্রতি প্রান্তিকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করছে। কোম্পানিটি শীর্ষ ১০ ক্লাউড প্রতিষ্ঠানের তালিকায় পৌঁছার কাছাকাছি রয়েছে। পাশাপাশি ওপেনএআই, ওরাকল, ডাটাব্রিকস ও হুয়াওয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত প্রান্তিকে বিশ্বের সব অঞ্চলে ক্লাউড বাজারের প্রবৃদ্ধি ছিল দৃঢ়। এর মধ্যে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড ও মেক্সিকো।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯ হাজার ৫৩০ কোটি ডলারে। গত বছর এ বাজারের মোট ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
২০২২ সালের শেষে চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এআই-চালিত ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদা বাড়তে থাকে। ফলে পরবর্তী সময়ে খাতটি ব্যাপক প্রবৃদ্ধি দেখেছে। জেনারেটিভ এআই প্লাটফর্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কনটেন্ট, ইমেজ ও সমাধান তৈরি করে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এছাড়া গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ পরিষেবার মাধ্যম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ না করেই শক্তিশালী কম্পিউটিং রিসোর্স ব্যবহার করতে পারছে।






















