অবৈধ মোবাইল ফোনের বাজার বন্ধে সরকারের ‘মহৎ উদ্যোগ’-কে প্রতিহত করতে না পেরে, এবার সরাসরি দেশকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দিয়েছে ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতরে অরাজকতা তৈরির লক্ষ্যে এই চক্রটি আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর সারা বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ‘ঘোষণা’ দিয়েছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করতে এই অবৈধ মোবাইল ফোন মাফিয়াচক্রকে সক্রিয়ভাবে ইন্ধন ও সহযোগিতা দিচ্ছে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পন্থীরা।
সরকার যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় এবং গ্রাহক প্রতারণা বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই চক্রটি তাদের হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য রক্ষা করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
নেপথ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘রিফারবিশড’ বাজার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই অবৈধ ফোনের আড়ালেই বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ‘রিফারবিশড’ (Refurbished) ফোনের এক ভয়াল বাজার।
এই সিন্ডিকেটের (যাদের নেতৃত্বে ‘সুমাস টেক’-এর পিয়াস ও ‘টেক অ্যান্ড টক’-এর সোহেলের মতো ব্যবসায়ীদের নাম এসেছে) মূল বাণিজ্যই হলো ‘দুবাই ফেরত’ বা ব্যবহৃত পুরোনো ফোন। এই ফোনগুলোকে চীনে পাঠিয়ে নতুন প্যাকেজিং, নকল ব্যাটারি ও সস্তা ডিসপ্লে লাগিয়ে ‘নতুন’ বলে গ্রাহকদের গছিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ, দেশের অবৈধ বাজারের ৭৫% ফোনই ‘রিফারবিশড’। প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক কম দামে আইফোন (iPhone) বা অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ ফোন কিনে এই চক্রের কাছ থেকে ভয়াবহভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। সম্প্রতি একটি ‘দুবাই ফেরত’ পোকো এফ৬ (Poco F6) ফোন বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনাও এই ‘রিফারবিশড’ ফোনের বিপদকেই সামনে এনেছে।
আ.লীগের ‘সুবিধাভোগী’ চক্রই এখন ‘অস্থিতিশীলতার’ হাতিয়ার? এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত ‘সুমাসটেক’-এর স্বত্ত্বাধিকারী আবু সাঈদ পিয়াসকে শুরু থেকেই সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, পিয়াসের নেতৃত্বাধীন এই চক্রটিই সাবেক সরকারের শীর্ষ মহল (পলক, জয়, সালমান) -কে ‘কমিশন’ দিয়ে হাজার কোটি টাকার ডলার পাচার ও রাজস্ব ফাঁকির বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়েছে এবং ২০২১ সালে এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল।
এখন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই ‘মহৎ উদ্যোগ’ (NEIR) পুনরায় চালু হওয়ায়, একই চক্রকে ব্যবহার করে সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরাই দেশকে অস্থিতিশীল করার খেলায় নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই সিন্ডিকেটটি তাদের অবৈধ বাণিজ্য রক্ষা করতে একদিকে ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’ নামে ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠন তৈরি করে ‘ছায়া সভাপতি’ আসলামকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে, অন্যদিকে ‘সাধারণ সম্পাদক’ পিয়াসের নেতৃত্বে এনইআইআর (NEIR) বিরোধী গুজব ও ভূ-রাজনৈতিক (চীন-বিরোধী) এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এখন আর শুধু রাজস্ব ফাঁকি বা গ্রাহক প্রতারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০ হাজার কোটি টাকার এই ‘অন্ধকার’ বাজার রক্ষা করতে ‘গ্রে-মাফিয়া’ চক্রটি এখন রাজনৈতিক ইন্ধনে দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য সরাসরি হুমকিতে পরিণত হয়েছে।






















