অ্যাপল আইপ্যাড মূলত দারুণ ডিজাইন এবং শক্তিশালী কার্যক্ষমতার জন্য পরিচিত। তবে অনেক ব্যবহারকারী হয়তো এখনো কিছু ছোট, কিন্তু দরকারি ফিচার সম্পর্কে জানেন না। এসব ‘লুকিয়ে থাকা’ ফিচার ডিভাইসের ব্যবহার আরো সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলে।
প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ারের মতে, এসব ফিচার ব্যবহার করা সহজ এবং কাজ ও বিনোদন দুই ক্ষেত্রেই আইপ্যাডকে আরো কার্যকর করে তোলে। এখানে এমন চারটি ফিচারের কার্যকারিতা তুলে ধরা হলো—
স্ত্রিন রেকর্ডিং
আইপ্যাডের একটি খুবই দরকারি ফিচার হলো স্ত্রিন রেকর্ডিং। এটি ডিভাইসে আগে থেকে বিল্টইন অবস্থায় থাকে। আইপ্যাড ব্যবহারকারীরা স্ত্রিনের সব কাজ যেমন ট্যাপ, সোয়াইপ এবং অ্যাপের মধ্যে যা করছেন সবই ভিডিও হিসেবে রেকর্ড করতে পারেন। চাইলে কণ্ঠও রেকর্ড করা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইউটিউবের ভিডিও, টিউটোরিয়াল তৈরি করা বা গেমপ্লে রেকর্ডের ক্ষেত্রে খুবই কাজে লাগে। সুবিধাটি নিতে, প্রথমে স্ক্রিন রেকর্ড ফিচারকে কন্ট্রোল সেন্টারে যোগ করতে হবে। তারপর স্ক্রিনে সোয়াইপ-ডাউন করে রেকর্ড বোতামে ট্যাপ করতে হবে। কণ্ঠ রেকর্ড করতে হলে মাইক্রোফোন অপশনটি চালু করতে হবে।
টেক্সট রিপ্লেসমেন্ট
আইপ্যাডের আরেকটি সুবিধা হলো টেক্সট রিপ্লেসমেন্ট। এটি টাইপিং আরো দ্রুত করতে সাহায্য করে। ব্যবহারকারীরা ছোট শর্টকাট বানিয়ে সেটি দীর্ঘ শব্দ বা বাক্যে রূপান্তর করতে পারেন। এক্ষেত্রে সেটিংসে গিয়ে General > Keyboard > Text Replacement-এ এটি চালু করা যায়। যারা নিয়মিত ই-মেইল বা মেসেজ লেখেন, তাদের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক।
কি ফ্লিকস
তৃতীয় ফিচারটি হলো কি ফ্লিকস। এটি ব্যবহার করে কিবোর্ড পরিবর্তন না করেই সংখ্যা ও চিহ্ন দ্রুত টাইপ করা যায়। প্রতিটি বাটনে হালকা ধূসর রঙে একটি করে বিকল্প চিহ্ন দেখা যায়। কোনো কি চাপা অবস্থায় নিচের দিকে আঙুল টেনে (ফ্লিক করে) দিলে সে বিকল্প চিহ্ন টাইপ হয়। এটি সাধারণ কিবোর্ডের সব বাটনে কাজ করে। তবে আরো চিহ্ন ব্যবহার করতে চাইলে আলাদা বিশেষ ক্যারেক্টার কিবোর্ড খুলতে হবে। আর যদি কেউ ফিচারটি না চান, তবে কিবোর্ড সেটিংস থেকে এটি বন্ধও করা যাবে।
দ্য থ্রি ফিঙ্গার কপি/পেস্ট জেসচার
সর্বশেষ টেক্সট এডিটিং সহজ করতে দ্য থ্রি ফিঙ্গার কপি/পেস্ট বা তিন-আঙুল কপি-পেস্ট জেসচার। আইপ্যাডে তিন আঙুল দিয়ে বিশেষ কিছু জেসচার ব্যবহার করে সহজেই কপি, কাট, পেস্ট, আনডু ও রিডু করা যায়। আঙুল দিয়ে স্ক্রিনে ভেতরের দিকে চিমটি বা পিঞ্চ করলে কপি হয়, দুবার দ্রুত পিঞ্চ করলে কাট হয়, আর বাইরের দিকে পিঞ্চ করলে পেস্ট হয়। পাশপাশি বাম দিকে সোয়াইপ করলে আনডু এবং ডান দিকে সোয়াইপ করে রিডু করা যায়।
এছাড়া আইপ্যাড ও অ্যাপল পেনসিল ব্যবহারকারীদের জন্য দারুণ এক সুবিধা হলো লক স্ক্রিন থেকেই দ্রুত নতুন নোট খুলে লেখা। এজন্য আলাদা করে নোটস অ্যাপ খোলার দরকার হয় না। শুধু পেনসিল দিয়ে স্ক্রিনে আলতোভাবে ট্যাপ করলেই হয়।





















