বিশ্বজুড়ে ২০১৪ সাল থেকে প্রায় ১৩ কোটি পাউন্ড ই-ওয়েস্ট তৈরি হয়েছে। মাইক্রোসফটের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কখনো কখনো স্বেচ্ছায় সফটওয়্যার আপডেট বা গুরুত্বপূর্ণ ফিচার বন্ধ করে দেয়। এতে করে অনেকেই ব্যবহারযোগ্য ডিভাইস বদলাতে বা নতুন ডিভাইস কিনতে বাধ্য হন। ফলে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। অলাভজনক অ্যাডভোকেসি সংস্থা পাবলিক ইন্টারেস্ট রিসার্চ গ্রুপের (পিআইআরজি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছর উইন্ডোজ ১০-এর জন্য ফ্রি সাপোর্ট ও সিকিউরিটি হালনাগাদ বন্ধ করে দিয়েছে মাইক্রোসফট। ফলে বিশ্বজুড়ে এখনো সচল প্রায় ৪০ কোটি কম্পিউটার আর মাইক্রোসফটের কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। আপডেট না থাকায় এসব কম্পিউটার নিয়ে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অনেক ব্যবহারকারী হয়তো এসব কম্পিউটার ফেলে দেবেন, যা ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-ওয়েস্ট বাড়াতে পারে।
শুধু উইন্ডোজ ১০-এ ফ্রি সাপোর্ট ও সিকিউরিটি আপডেট বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ১৬০ কোটি ই-ওয়েস্ট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে গবেষকরা দেখেছেন, উইন্ডোজ ১০ চালানো ৪৩ শতাংশ কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ সংস্করণে আপগ্রেড করা সম্ভব নয়। ফলে ডিভাইসগুলো ব্যবহার অযোগ্য হয়ে ই-ওয়েস্টে পরিণত হচ্ছে।
ইলেকট্রনিক বর্জ্যকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বর্জ্য বলে উল্লেখ করে পিআইআরজির সিনিয়র ডিরেক্টর নাথান প্রক্টর বলেন, ‘এর ক্ষতিকারক দিক দুই ধরনের। প্রথমত, এতে সিসা ও পারদসহ বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে, যা মাটি, পানি ও বাতাসে মিশে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারসহ অন্যান্য ডিভাইসে থাকে কোবাল্ট, নিকেল, লিথিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ। এসব খনিজ খুঁজে বের করতে প্রচুর শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার করতে হয়। এ খনন প্রক্রিয়ায় পরিবেশের উপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়, যেমন বনাঞ্চল ধ্বংস, নদী বা মাটির দূষণ।’
উইন্ডোজ ১০-এর সাপোর্ট শেষ হচ্ছে প্রায় এক দশক পর, তবে এরই মধ্যে কিছু ডিভাইস খুব অল্প সময়ে ই-বর্জ্যে পরিণত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ফিটবিট ঘড়ি মাত্র দুই থেকে চার বছর ব্যবহারের পর বন্ধ করা হয়। এরপর আছে গুগল পিক্সেল ২ ফোন, যা মাত্র তিন বছর পর সাপোর্ট বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্যবহারকারীদের কাছে এগুলো অকার্যকর হয়ে যায় এবং ‘ই-ওয়েস্ট গ্রেভইয়ার্ডে’ (ডিভাইস ফেলার স্থান) চলে যায়।
ইলেকট্রনিক বর্জ্যগুলো সাধারণত রিসাইক্লিং কেন্দ্র, ল্যান্ডফিল (মাটির নিচে ফেলা), বিদেশে রফতানি বা পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তবে অনেক সময় এসব কাজ নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয় না। ফলে ক্ষরিকারক রাসায়নিক বাতাসে মিশে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রনিক বর্জ্য অত্যন্ত অপচয়ী এবং প্রাণিকুলের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রতিদিন ই-ওয়েস্টের পরিমাণ বাড়ছে। তবে অনেক সচেতন সংস্থা ডিভাইসের দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্ট, মেরামত প্রক্রিয়া সহজ ও সাশ্রয়ী এবং ভোক্তার পাশাপাশি অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বর্তমানে ইলেকট্রনিক বর্জ্য একটি বড় সমস্যায় পরিণত হওয়ায়, মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুনর্ব্যবহার ও পুনর্নির্মাণ করছে। ফলে বিশ্বব্যাপী রিফারবিশড ও সেকেন্ড হ্যান্ড ডিভাইসের বাজার বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থা মরডর ইন্টেলিজেন্স।






















