২০২৫ সালে এসে অনলাইন স্ক্যাম বা প্রতারণা আরো জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। প্রতারকরা এখন উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহার করে নানা ফাঁদ পেতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অর্থ ও লগইন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীরাও অজান্তে এ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কিছু সতর্কতা মেনে চললেই অনেক প্রতারণা এড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকটাইমস অবলম্বনে অনলাইন প্রতারণার শীর্ষ ১১ কৌশল এবং এর থেকে রক্ষায় করণীয় সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করা হলো—
● এআইনির্ভর ফিশিং ও স্মিশিং
ব্যাংক, সোশ্যাল মিডিয়া বা স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের মতো সাজানো ই-মেইল ও বার্তা পাঠিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়া হয়। এগুলো দেখতে আসল মনে হওয়ায় অনেকেই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যান। এছাড়া এখন এসএমএস ও ফিশিং মিলিয়ে তৈরি হয়েছে স্মিশিং প্রতারণা। এক্ষেত্রে অপরাধীরা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চুরির চেষ্টা করে।
● রোমান্স স্ক্যাম
ভুয়া প্রোফাইল বা ডিপফেক ভিডিও ব্যবহার করে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে প্রতারকরা অর্থ হাতিয়ে নেয়।
● অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা
নকল ই-কমার্স সাইট, ভুয়া অফার বা রিফান্ড বার্তার মাধ্যমে টাকা ও কার্ডের তথ্য চুরি করা হয়।
● টেক সাপোর্ট স্ক্যাম
প্রতারকরা প্রযুক্তি সহায়তা প্রদানকারীর পরিচয়ে জানায়, ব্যবহারকারীর ডিভাইসটি হ্যাক হয়েছে বা ভাইরাসে আক্রান্ত। এরপর তারা সমস্যা সমাধানের নামে রিমোট অ্যাকসেস বা অর্থ দাবি করে।
● লটারি ও পুরস্কার প্রতারণা
হঠাৎ ফোন দিয়ে বা ভুয়া বার্তায় লটারি কিংবা পুরস্কার জেতার কথা জানানো হয়। কিন্তু এর জন্য দাবি করা হয় প্রসেসিং ফি বা ব্যক্তিগত তথ্য।
● বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টো প্রতারণা
উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টো প্লাটফর্ম দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়।
● চ্যারিটির নামে প্রতারণা
দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুয়া দাতব্য সংস্থা বা তহবিল তৈরি করে অর্থ নেয়া হয়।
● ভুয়া চাকরির প্রস্তাব
চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য বা প্রশিক্ষণ ফি দাবি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা
হ্যাক হওয়া বা নকল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বন্ধুর পরিচয়ে টাকা বা গিফট কার্ড চাওয়া হয়।
● সাবস্ক্রিপশন ও অ্যাপ স্ক্যাম
ফ্রি অ্যাপ বা ট্রায়ালের নামে গোপনে টাকা কাটা বা তথ্য নেয়া হয়।
● র্যানসমওয়্যার ও ম্যালওয়্যার
ভুয়া ই-মেইল বা ডাউনলোডের মাধ্যমে ডিভাইস লক করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
● ভ্রমণ ও ছুটির প্রতারণা
ভুয়া বাড়ি ভাড়া, হোটেল বুকিং, ট্যুর বা অবকাশ প্যাকেজ, রেন্টাল বা ভ্রমণ অফার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ বা তথ্য চুরি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০২৫ সালে নতুন ধরনের প্রতারণাও বাড়ছে। এর মধ্যে আছে এআই দিয়ে তৈরি চাকরির অফার, নকল বিনিয়োগ প্লাটফর্ম, জনপ্রিয় অ্যাপের মতো দেখতে ফিশিং সাইট এবং ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার নামে ভুয়া কল বা বার্তা।
● নিরাপদ থাকতে পরামর্শ
যেকোনো লিংক বা বার্তা যাচাই করে ক্লিক করা, ব্যক্তিগত তথ্য দেয়ার আগে চিন্তাভাবনা করা, সব অনলাইন অ্যাকাউন্টে শক্ত পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করা এবং নিয়মিত ব্যাংক ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট নজরে রাখা। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের সচেতন করাও জরুরি। তথ্যজ্ঞান ও নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদের অভ্যাসই অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।






















