অ্যামাজনের এক হাজারেরও বেশি কর্মী কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছেন। তারা বলছেন, অ্যামাজন সব কাজে দ্রুত এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করলে তা গণতন্ত্র, চাকরি ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কোম্পানির অতিদ্রুত এআই সম্প্রসারণের উদ্যোগ সমাজে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মীরা।
কর্মীদের এ খোলা চিঠিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৯ জন অ্যামাজন কর্মী এবং ২ হাজার ৪৩৬ জন বাইরের ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার, বিজ্ঞানী, ডিজাইনার, লজিস্টিকস কর্মী ও মার্কেটিং পেশাজীবীরা।
এআই প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রে ধীরগতি অবলম্বন করতে তারা আহ্বান জানিয়েছেন অ্যামাজনকে। কোম্পানিটি ব্যবসা ও কাজের ক্ষেত্রে বড় পরিসরে এআইয়ের ব্যবহার শুরু করছে। কারণ অ্যামাজন মূলত মুনাফা ও স্বয়ংক্রিয়করণের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে নৈতিকতা, পরিবেশের টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন কর্মীরা।
চিঠিতে অ্যামাজনের কর্মীরা বলেন, কোম্পানির দ্রুত ও আগ্রাসী এআই ব্যবহারের ফলে ক্ষমতা কেবল কয়েকটি সংস্থা বা ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে। একই সঙ্গে তা জলবায়ু সংকটকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান কমিয়ে দিতে পারে, যা সমাজ ও প্রকৃতি উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
অ্যামাজন গত মাসে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। কোম্পানির সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি বারবার বলেছেন, ‘এআই অ্যামাজনের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা অনেক বর্তমান কর্মীর প্রয়োজনকে কমিয়ে দিতে পারে।’
এর পরই অ্যামাজনের কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাদের আশঙ্কা, জেনারেটিভ এআই কেবল কাজের ধরন পরিবর্তন করবে না, বরং তাদের পুরোপুরি প্রতিস্থাপনও করতে পারে।





















