দেশে অবৈধ ফোনের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ডাম্পিং ঠেকাতে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি নজিরবিহীনভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে কেসিং বা খোলস পরিবর্তন করে পুরনো ও রিফারবিশড ফোনকে ‘নতুন’ হিসেবে দেশে ঢোকানোর প্রবণতা রুখতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে কাস্টমস।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আসা ফ্লাইটগুলোকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চোরাচালান ও রিফারবিশড ফোন ঠেকাতে শিগগিরই এসব ফ্লাইটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কেন এই কঠোরতা?
সরকার লক্ষ্য করেছে, একটি চক্র বিদেশ থেকে ব্যবহারের অযোগ্য ও পুরনো ফোন বা ‘ইলেকট্রনিক বর্জ্য’ সংগ্রহ করে সেগুলোর কেসিং বদলে নতুন মোড়কে দেশে আনছে। এগুলো দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে নতুন ফোন হিসেবে, যা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। দেশকে বিদেশি ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ‘ডাম্পিং স্টেশন’ হওয়া থেকে বাঁচাতে এই কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় ক্লোন ফোন, চুরি-ছিনতাইকৃত ফোন এবং রিফারবিশড হ্যান্ডসেট আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন নিয়ম
বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের এখন থেকে অবশ্যই মোবাইল কেনার বৈধ চালান বা রসিদ (Money receipt) সঙ্গে রাখতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরা সাধারণ প্রবাসীদের ওপর চোরাচালান চক্র চাপ প্রয়োগ করে বা প্রলোভন দেখিয়ে শুল্ক ছাড়া স্বর্ণ ও দামি ফোন বহনে ব্যবহার করছে। বৈধ চালানের বাধ্যবাধকতা থাকলে এই দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত যাত্রীরা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন।
বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে বিশেষ নজরদারি
চোরাচালান প্রবণ রুটগুলোতে, বিশেষ করে ভারত, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, রিফারবিশড ফোনের কারসাজি ধরতে তারা প্রস্তুত।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দেশে অবৈধ ও নিম্নমানের ফোনের দাপট কমবে এবং বৈধ মোবাইল শিল্প সুরক্ষা পাবে।






















