ইন্টারনেটের গতিতে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন যুক্তরাজ্য ও জাপানের এক দল গবেষক। সাধারণ অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহার করেই তারা প্রতি সেকেন্ডে ৪৩০ টেরাবাইট (টিবিপিএস) তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম হয়েছেন। এ গতি এতটাই বেশি যে প্রায় ৮০ গিগাবাইটের জনপ্রিয় ভিডিও গেম ব্যাটলফিল্ড ৬–ডাউনলোড করতে সময় লাগবে মাত্র ১ মিলিসেকেন্ড।
গবেষকরা মনে করছেন, এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ৭জি বা সপ্তম প্রজন্মের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন যুক্তরাজ্যের অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটি ও জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজির (এনআইসিটি) বিজ্ঞানীরা। তারা প্রতি সেকেন্ডে ৪ লাখ ৩০ হাজার গিগাবাইট বা ৪৩০ টেরাবাইট তথ্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন যা বর্তমানে ব্যবহৃত সাধারণ ব্রডব্যান্ড গতির তুলনায় প্রায় ৪৫ লাখ গুণ বেশি।
ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান কনফারেন্স অন অপটিক্যাল কমিউনিকেশনের ৫১তম আসরে এ গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে গবেষক দলটি তাদেরই আগের ৪০২ টিবিপিএস গতির রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
এ গবেষণার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, ইন্টারনেটের এ অভাবনীয় গতি পেতে নতুন করে কোনো কেবল বা অবকাঠামো বসাতে হবে না। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে সাধারণ অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই একই কেবল ব্যবহার করে এ গতি অর্জন করা সম্ভব। সাধারণত ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হলে ব্যয়বহুল নতুন অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন হয়। তবে এ নতুন গবেষণা প্রমাণ করছে যে বিদ্যমান নেটওর্য়াক ব্যবস্থার মধ্যেই এখনো অনেক অজানা সক্ষমতা লুকিয়ে আছে।
এদিকে উচ্চগতির যোগাযোগ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা চালানো হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের আইন্দহোভেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকরা ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরত্বে তারবিহীনভাবে সেকেন্ডে ৫ দশমিক ৭ টেরাবাইট গতিতে তথ্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে এনআইসিটি ও তাদের অংশীদাররা ১ হাজার ৮০৮ কিলোমিটার দূরত্বে সেকেন্ডে ১ দশমিক শূন্য ২ পেটাবাইট গতিতে তথ্য পাঠানোর পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এতে আগের তুলনায় ২০ শতাংশ কম ব্যান্ডউইডথ খরচ করেই বেশি তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়েছে, যা পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও দক্ষতা বাড়িয়েছে।
গতির বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট করতে গবেষকরা একটি উদাহরণ দিয়েছেন। মানুষের চোখের একটি পলক ফেলতে সাধারণত ১০০ থেকে ৪০০ মিলিসেকেন্ড সময় লাগে। আর এ নতুন গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে একটি বড় গেম বা হাই-ডেফিনিশন সিনেমা ডাউনলোড করা যাবে মাত্র ১ মিলিসেকেন্ডেই। অর্থাৎ চোখের পলক ফেলার আগেই হাজার হাজার গিগাবাইট তথ্য নামানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে এ প্রযুক্তি পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সফলভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে এটি পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যাপক প্রসারের ফলে ইন্টারনেটের যে বিপুল চাহিদা তৈরি হবে, তা মেটাতে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















