দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বৈশ্বিক টেলিকম গ্রুপ ভিওন। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, বাংলালিংক ও টেলিটকের সম্ভাব্য অংশীদারত্ব বা একীভূতকরণ বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভিওনের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-র সঙ্গেও সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক হয়েছে।
উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে ভিওন বলেছে, বাংলালিংকের বাণিজ্যিক দক্ষতা, বাজার অভিজ্ঞতা এবং টেলিটকের সরকারি স্পেকট্রাম ও অবকাঠামোগত সুবিধা একত্রিত হলে বিশেষ করে গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে টেলিটক ও বাংলালিংকের মধ্যে চালু হওয়া অ্যাকটিভ নেটওয়ার্ক শেয়ারিং এবং ন্যাশনাল রোমিং পাইলট প্রকল্পকেও ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে বিটিসিএলের সঙ্গে অংশীদারত্বের ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা দেখছে ভিওন। তাদের মতে, বিটিসিএলের ফাইবার নেটওয়ার্ক ও ফিক্সড-লাইন অবকাঠামোর সঙ্গে বাংলালিংকের মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একীভূত করা গেলে গ্রাহকদের জন্য ‘ট্রিপল প্লে’ (ভয়েস, ডেটা ও ভিডিও) এবং ‘কোয়াড প্লে’ (মোবাইলসহ সমন্বিত ডিজিটাল সেবা) চালু করা সম্ভব হবে।
চিঠিতে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদেও বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে ভিওন। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দ্রুত সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী সেবার কারণে নগদ বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, ‘গত ২১ বছরে ভিওন ও বাংলালিংক বাংলাদেশে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। অনুকূল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত হলে আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’
এদিকে টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ‘শুধু ভিওন নয়, আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি টেলিটকে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশের স্বার্থে বিনিয়োগ হলে আমরা তা স্বাগত জানাই।’
তিনি আরও বলেন, টেলিটক ইতোমধ্যে ফাইভ-জি লাইসেন্স ও নতুন স্পেকট্রাম পেয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতেও এই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ভিওনের এই আগ্রহ বাস্তবায়িত হলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে ডিজিটাল সেবার নতুন মডেলও গড়ে উঠতে পারে। তবে একীভূতকরণ বা বিনিয়োগের যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে বাজার প্রতিযোগিতা, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক স্বার্থের বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।






















