প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গত ২৩ মার্চ, ২০২৫ তারিখে জারিকৃত একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও ইনফরমেশন টেকনোলজি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা ঠিকাদার/সরবরাহ প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের অর্থায়নে একাধিকবার বিদেশ সফর করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৮-২০ জুন ২০২৫ তারিখে চীনে অনুষ্ঠিতব্য “মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (MWC) ২০২৫” (ভ্রমণ সময় ব্যতীত) অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) এর নিম্নলিখিত কর্মকর্তাদের বিদেশে ডেপুটেশনের অনুমোদন প্রদানের জন্য পরিচালক এম.এ. তালেব হোসেন স্বাক্ষরকারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালার এমন প্রকাশ্য লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ২৩ মার্চ, ২০২৫ তারিখের চিঠিতে (স্মারক নং) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে, “ঠিকাদার/সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে অবশ্যই বিদেশে ভ্রমণ পরিহার করতে হবে।” এই নির্দেশনাটি সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর একটি মৌলিক পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন: হুয়াওয়ের টাকায় আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর
অভিযোগ: ৫ বারের বেশি বিদেশ সফর ও MWC 2025-এর প্রসঙ্গ
অভিযোগ উঠেছে যে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এই নির্দেশনা জারির পরও, শুধুমাত্র মে ও জুন ২০২৫ মাসেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের অর্থায়নে অন্তত পাঁচবার বিদেশ ভ্রমণের আয়োজন করেছেন এবং করছেন। এই সফরগুলোর মধ্যে ১৮-২০ জুন ২০২৫ তারিখে চীনে অনুষ্ঠিতব্য “মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (MWC) ২০২৫”-এ যোগদানের জন্য বিটিআরসি কর্মকর্তাদের ডেপুটেশনের অনুমোদনও অন্তর্ভুক্ত।
এই ধরনের সফরগুলো সরাসরি সরকারি নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক। যখন একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের ব্যয়ভার বহন করে, তখন তা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা তৈরি করে। এতে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক এবং স্বচ্ছতার প্রশ্ন
সরকার প্রধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের বিদেশ সফর অব্যাহত রাখা কি সরকারি নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক নয়? এই প্রশ্নটি এখন সামনে চলে এসেছে। এমন আচরণ সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা এবং পাবলিক ফান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এই অভিযোগের দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
এই ঘটনাটি সরকারের স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক আচরণের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণে মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের বিনোদনমূলক উপহার। সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণের পেছনে ব্যয় করা অর্থ আমাদের কাছ থেকেই মুনাফা হিসেবে আদায় করে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্রয় প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা (ঠিকাদারদের সাথে) পরস্পর যোগসাজশে চুক্তিতে এসব শর্ত দেয়। এতে প্রকল্পের টাকা যেমন লুটপাত হয় তেমনি বিদেশ সফর বাবদ কর্মকর্তাদের আয় হয়। গরিব মানুষের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করতে যে তাদের বাধে না, তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পুকুর কাটার জন্য, খিচুড়ি রান্না দেখার জন্য কর্তাব্যক্তিদের বিদেশ সফর। কেনাকাটায় দুর্নীতি, প্রকল্পের টাকা নয়ছয়, যেনতেনভাবে ছুতানাতায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এমনটি ধারবাহিকভাবে ঘটেই চলেছে।






















