দেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব পড়েছে শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের আয়ে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটি মোট ৪ হাজার ১০৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৮ শতাংশ কম। তবে, ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে এই প্রান্তিকে মোট কর-পরবর্তী মুনাফায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আর্থিক ফলাফল জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৬৩ লাখে, যার মধ্যে ৫ কোটি ৩ লাখ বা ৫৮.৩ শতাংশ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।
চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমরা অর্থনৈতিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি, যা টেলিকমসহ সকল ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের কৌশলগত বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গত প্রান্তিকের তুলনায় রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার ফলে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় মোট কর-পরবর্তী মুনাফা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর এবং এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের জন্য শেয়ার প্রতি ১১ টাকা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
ডিজিটাল ও এআই ভিত্তিক ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা
ইয়াসির আজমান ডিজিটাল অগ্রগতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের রূপান্তরের যাত্রায় অন্যতম একটি সূচক হচ্ছে ডিজিটাল প্রবৃদ্ধি। এদিক থেকে মাইজিপি অ্যাপ একটি মানদণ্ড তৈরি করেছে এবং এটি এখন বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থানীয় সেলফ-সার্ভিস অ্যাপে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি মাসে ২ কোটি ২৫ লাখ গ্রাহক ব্যবহার করেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যেখানে সবকিছু হবে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক। এটি অবধারিত। এই প্রেক্ষাপটে কোম্পানির সক্ষমতা বাড়াতে এবং গ্রাহকদের আরও মানসম্মত সেবা দিতে আমরা আমাদের কর্মীদের দক্ষ করে তুলছি এবং এআই-চালিত মডেল তৈরি করছি।”
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক বলেন, “অর্থনীতি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে, মূল্যস্ফীতি কমছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল হচ্ছে। তবে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা আমাদের জন্য বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।”
তিনি জানান, ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর মনোযোগ দেওয়ার ফলে বিক্রিত পণ্য ও সেবার ব্যয় এবং পরিচালন ব্যয় উভয়ই কমেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিক ব্যয় ২ শতাংশ হ্রাস করেছে। ঈদ এবং ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে গত প্রান্তিকের তুলনায় এই প্রান্তিকে রাজস্ব ৭ শতাংশ বেড়েছে।
রিসব্যাক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সার্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আগের বছরের তুলনায় ভালো একটি প্রবৃদ্ধি দেখতে পাব বলে আমি আশাবাদী।”





















