বিশ্বব্যাপী টেলিকম সরঞ্জাম বাজারের আকার চলতি বছর প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালে বাজারটির আকার বেড়ে ৮৯ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। পাঁচ বছরে মধ্যে টেলিকম সরঞ্জাম বাজারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার হবে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
টেলিকম সরঞ্জাম হলো সেসব যন্ত্র ও ডিভাইস, যা ফোন, ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সংযোগ চালাতে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে রাউটার, মডেম, সেলুলার টাওয়ার, অ্যান্টেনা, সুইচ, হাব ও স্যাটেলাইট যন্ত্র অন্তর্ভুক্ত। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার হয় মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা দেয়া, ফোনকল ও ডাটা আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ায় টেলিকম সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৫২ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মানুষ ব্যক্তিগত ও পেশাদারি কাজের ক্ষেত্রে যোগাযোগ, বিনোদন এবং অনলাইন কেনাকাটার জন্য ইন্টারনেটের ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হচ্ছে। ফলে টেলিকম কোম্পানিগুলো নেটওয়ার্কের গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে আধুনিক সরঞ্জাম কিনছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চগতির ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের চাহিদা আরো বেড়েছে। বিশ্বে এখন প্রায় ৩২০টি ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু রয়েছে। ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান (কম লেটেন্সি) এবং বেশি তথ্য একসঙ্গে পাঠানোর সক্ষমতা (উচ্চ ব্যান্ডউইডথ) দেয়। ফলে স্বচালিত গাড়ি, স্মার্ট সিটি ও অটোমেশন শিল্পের মতো উন্নত প্রযুক্তি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু রাখতে এবং এটি ভালোভাবে কাজ করাতে টেলিকম সরঞ্জাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ফাইভজি নেটওয়ার্কের বিস্তার ধীরে ধীরে টেলিকম শিল্পের চেহারা বদলে দিচ্ছে এবং টেলিকম সরঞ্জামের বাজার বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে টেলিকম কোম্পানিগুলো নিজেদের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো আধুনিক করছে। ফলে বেস স্টেশন, স্মল সেল ও শক্তিশালী অ্যান্টেনার মতো উন্নত সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে। ফাইভজি নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ কেবল বড় শহর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকায়ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেলিকম কোম্পানিগুলোকে শক্তিশালী এবং বড় পরিসরে ব্যবহারযোগ্য টেলিকম সরঞ্জামে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।
গ্লোবাল মার্কেট ইনসাইট বলছে, টেলিকম সরঞ্জামের বাজারকে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও সার্ভিস বা পরিষেবা। গত বছর হার্ডওয়্যার অংশের বাজার হিস্যা ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। রাউটার, সুইচ ও হাবের মতো হার্ডওয়্যার টেলিকম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সমর্থনের জন্য অপরিহার্য। এগুলো ঐতিহ্যবাহী ফোনকল এবং আধুনিক ডাটানির্ভর ব্যবহার, যেমন ফাইভজি, আইওটি ও ক্লাউড কম্পিউটিং চালাতে সহায়ক।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেলিকম খাতে সাম্প্রতিক বছরে স্বল্পমেয়াদি কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও পুরো শিল্পটি এখন বড় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে, যা গ্রাহকসেবা ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে। বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানি নিজেদের ব্যবসা ও প্রযুক্তি উন্নত করার জন্য অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে বিশেষ ধরনের সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করছে।






















