চারটি ডেটা সেন্টার স্থাপনে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এই তদন্তের অংশ হিসেবে আইসিটি টাওয়ারের বিভিন্ন পদে কর্মরত আটজন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের কাছে নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিও চাওয়া হয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে উপপরিচালক মোঃ মশিউর ইসলামের স্বাক্ষর করা এক নোটিশে আটজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে । নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
যাদের তলব করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের কর্মকর্তারা ।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে দুদক থেকে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয় । চিঠিতে ‘ইন্টারনাল সার্ভার ব্যবস্থাপক (নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার)’ পদের নিয়োগ সংক্রান্ত সব রেকর্ডপত্র—যেমন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বাছাই কমিটি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র, নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ এবং নিয়োগপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ।
দ্বৈতনাগরিকত্ব নিয়ে দেশের স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ইরেশ সারোয়ার
চিঠিতে ইরেশ সারাওয়ারকে ব্যবস্থাপক (নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার) পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, দাখিলকৃত আবেদন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল শীট, নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র।
দুদকের উভয় দলিলেই অভিযোগের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন এবং উচ্চমূল্যে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে ৪টি ডেটা সেন্টার স্থাপন প্রকল্পে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ।
দুদকের এই পরপর দুটি পদক্ষেপে ধারণা করা হচ্ছে, বহুল আলোচিত এই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।






















