মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (এমডিএফ) প্রায় ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
তৌফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (সংশোধনী ২০১০) এর ধারা ৭৩, ৭৪ ও ৭৬ এবং পেনাল কোডের ১৮৬০ এর ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় এই মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বেক্সিমকো কম্পিউটারস লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার এবং সালমান এফ রহমানের পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন তার বড় ভাই সোহেল এফ রহমান এবং ছেলে শায়ান এফ রহমান।
এছাড়াও মামলার এজাহারে আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) এর কার্যনির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন:
- সভাপতি আসিফ রব্বানি
- সহসভাপতি আব্দুস সালাম
- সদস্য জয়নাল আবেদিন
- সদস্য হাফিজুর রহমান
- সদস্য খালিদ ইসলাম
- সদস্য আব্য ত্বহা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
- সদস্য একেএম শামসুদ্দোহা
- সদস্য গাজী সালাউদ্দিন
- সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল হান্নান
- সদস্য নজরুল ইসলাম
- সদস্য হাসিবুর রশীদ
- সদস্য হুমায়ুন কবীর
- সদস্য নাদির শাহ কুরেশী
- সিসিও মুশফিক মঞ্জুর।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আইওএফ গঠনের পর প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। নেটওয়ার্ক উন্নয়নে আদায়কৃত মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের এই টাকা আত্মসাতে আইওএফ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ অনুসারে, ক্ষমতায় থাকা সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক কল পরিচালনার গেটওয়ে খাত সালমান এফ রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তার নির্দেশনায় আইজিডব্লিউ অপারেটরদের থেকে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ তার মালিকানাধীন বেক্সিমকো কম্পিউটারস লিমিটেডে জমা করা হতো, যদিও এই প্রতিষ্ঠানের কোনো আইজিডব্লিউ পরিচালনার লাইসেন্স নেই।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘মার্কেট ডেভেলপমেন্ট এক্সপেন্স’ নামে প্রায় ৬৩১ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যার ৯৫ শতাংশেরও বেশি গেছে বেক্সিমকো কম্পিউটারস লিমিটেডের নামে। অথচ বিটিআরসির তালিকাভুক্ত আইজিডব্লিউ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই কোম্পানির কোনো নাম নেই।






















