এবার ফিনটেক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারে আসছে মোবাইল আপরেটররা। এরই মধ্যে স্বতন্ত্র কোম্পানি গড়ে ‘স্মার্ট পে’নামে নিজস্ব ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা চালুর অনাপত্তি পেয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড। আবেদনের দুই বছরের মাথায় দশম পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে সেবা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিও পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বেধে দেয়া ১৭ শর্ত মেনে ‘স্মার্ট পে’নামে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (ডিএফএস) খাতে নিজস্ব সেবা চালুর কাজ শুরু করেছে অপারেটরটি।
নতুন এই সেবা নিয়ে রবি আজিয়াটা পিএলসি’র চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেছেন, “আমাদের চলমান কিছু সেবার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী এ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলাম। স্মার্ট পে লিমিটেড নামে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) লাইসেন্সের জন্য এনওসি প্রদান করায় আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, এই লাইসেন্স দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনার পাশাপাশি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে আমরা এমন একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যা গ্রাহক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সেবাগুলোকে একই প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে যুক্ত করবে। রবি বরাবরই উদ্ভাবননির্ভর সেবা উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে। PSP উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে এমন একটি সমাধান আনতে চাই, যা নগদহীন সমাজ গঠনের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
অপরদিকে সম্পূর্ণ দেশীয় মালিকানায় রবি’র পর ‘নিউ পিএসপি লিমিটেড’ নামে পিএসপি সেবা চালুর আবেদন করা বাংলালিংকের অনাপত্তি পাওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলতি বছরেই একাদশ পিএসপি হিসেবে মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে অপারেটরটি। জানাগেছে, সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) লাইসেন্সের জন্য বাংলালিংক ২০২৪ সালের নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জমা দেয়। আবেদন গ্রহণ করে কমার্সিয়াল ও টেকনোলজি ইভ্যালুয়েশনে উৎরে গেছে অপারেটরটি। এখন সিআইডিসহ আনুষঙ্গিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলালিংক এর চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান। সূত্রমতে, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে চিঠি লিখেছে বাংলালিংকের মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান ভিওন গ্রুপ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবসায় এর আগেই আইপে সিস্টেমস, ডি মানি বাংলাদেশ, প্রগতি সিস্টেম, গ্রিন অ্যান্ড রেড টেকনোলজিস, রিকারশন ফিনটেক, ডিজিটাল পেমেন্টস লিমিটেড, এবিজি টেকনোলজিস, সেবা ফিনটেক ও সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি বললেন, পিএসপি সেবা দিতে আমরা এরই মধ্যে শতভাগ বাংলাদেশী বিনিয়োগে স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠন করেছি। আমরা দ্রুতই অনাপত্তি পেতে আশাবাদী।
রবি ও বাংলালিংকের পক্ষে পিএসপি সেবার আবেদন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রবি-কে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। বলেছেন, আরেকটির (বাংলালংক) আবেদন বিবেচনাধীন আছে। আমরা চাই, ডিজিটাল লেনদেন বাজারে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলো আসুক। এতে সেবার মান বাড়বে। গ্রাহকেরা উপকৃত হবেন।
তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর নোট ছাপাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। এই টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠাতেও নানা ধরনের ঝুঁকি ও বিড়ম্বনা থাকে। এ অবস্থায় দৈনন্দিন জীবনে ‘ক্যাশলেস ট্রানজেকশন’ নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়া অর্থ পাচার ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পিএসপি সেবা দিতে কোম্পানি গঠনে মূলধন হতে হবে ২০ কোটি টাকা। লাইসেন্স পাওয়ার পর ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড থেকে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে পিএসপি প্রতিষ্ঠান। একইসঙ্গে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করবে।
তবে এজন্য ভোক্তার ডাটার গোপনতা ও সুরক্ষা নীতিমালা, মার্চন্ট নিয়োগ ও সিএফটি নীতিমালা প্রণয়ন; আইসিটি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; পৃথক ভৌগলিক বলয়ে ডাটা সেন্টার ও প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের পর ডেটা এবং সিস্টেমগুলি পুনরুদ্ধার ব্যবস্থাপনা; নিজস্ব সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত এবং এর মান যাচাই; ডাটা ব্যাকআপ এবং রিটেনশন নীতি সুস্পষ্ট করতে হবে।






















