দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল (Citycell) নতুন রূপে আবারও ব্যবসায় ফিরছে—এমন একটি খবর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পড়েছে, যা অনেক পুরোনো গ্রাহকের মধ্যে নস্টালজিয়া এবং আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই খবরটি সম্পূর্ণরূপে একটি গুজব এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
গুজবের উৎস কী?
বিভিন্ন সময়ে সিটিসেলের পুরানো বিজ্ঞাপন বা লোগো ব্যবহার করে কিছু ফেইসবুক পেজ ও গ্রুপ থেকে “ফিরছে সিটিসেল” বা “নতুন রূপে আসছে সিটিসেল” এমন পোস্ট দেওয়া হয়। মূলত ব্যবহারকারীদের মধ্যে আবেগ উসকে দিয়ে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের গুজব ছড়ানো হয়। অনেক সময় কোনো খবর নতুন করে শেয়ার হওয়ার ফলেও এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
বাস্তবতা কী? কেন ফেরা প্রায় অসম্ভব?
টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিটিসেলের পক্ষে মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেবে ব্যবসায় ফেরা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব। এর পেছনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
১. বিপুল পরিমাণ বকেয়া: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে সিটিসেলের প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সরকারি পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার কোনো সুযোগ নেই।
২. লাইসেন্স বাতিল: বিপুল পরিমাণ বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বিটিআরসি ইতোমধ্যে সিটিসেলের টু-জি লাইসেন্স এবং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন বাতিল করেছে। একটি মোবাইল অপারেটরের জন্য লাইসেন্স হলো তার কার্যক্রম পরিচালনার মূল ভিত্তি। লাইসেন্স ছাড়া কোনো কোম্পানির পক্ষে সেবা প্রদান করা সম্ভব নয়।
৩. তরঙ্গ (Spectrum) বরাদ্দ নেই: সিটিসেলের নামে বরাদ্দকৃত তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে সেই তরঙ্গ খালি নেই এবং নিলামের মাধ্যমে নতুন অপারেটরদের কাছে তা বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে। নতুন করে তরঙ্গ বরাদ্দ পাওয়া একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল প্রক্রিয়া।
৪. কোনো নতুন বিনিয়োগকারী নেই: সিটিসেলের মূল প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড বা অন্য কোনো নতুন বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকে কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করার বা এর বিপুল দেনা পরিশোধ করে ব্যবসায় ফেরার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ টেকজুম ডটটিভিকে বলেন, হাইকোর্টে তাদের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাছাড়া তাদের অবকাঠামো বলে কিছু নেই এখনো। যার ফলে লাইসেন্স ফিরে পেলেও অপারেশনে যাওয়া তাদের জন্য এত সহজ নয়। অর্থাৎ তারা যদি আসতে পারে তাহলেও সময় লাগবে বছরখানেক। তবে এই ধরনের অপারেটর আসুক আমরা চাই।
যদিও সিটিসেল নামটি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বিশাল দেনা, লাইসেন্স বাতিল এবং তরঙ্গ না থাকার মতো কঠিন বাস্তবতার কারণে এর ফিরে আসার খবরটি একটি ভিত্তিহীন গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। বিটিআরসি’র পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তাই সিটিসেলের ফিরে আসার খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।






















