সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবার (MFS) অপব্যবহার ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ এবং আগামী নির্বাচনের আগে সিমের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (৩১ অক্টোবর) থেকে এক জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি’র বিপরীতে ১০টির বেশি সিম ব্যবহার করা যাবে না। এরই মধ্যে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করে দিতে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এই পদক্ষেপের ফলে সারা দেশে অন্তত ৫০ লাখের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৫০ লাখ সিম বন্ধের প্রক্রিয়া
দেশে সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে, গত আগস্ট মাসে বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে যাদের নামে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত আছে, তাদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে নিজ দায়িত্বে অতিরিক্ত সিম বাতিল (ডি-রেজিস্টার) বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল।
বিটিআরসি’র একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয়। গত আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি নিবন্ধিত সক্রিয় সিমের সংখ্যা ছিল ৬৭ লাখ।
বেঁধে দেওয়া তিন মাসে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ সিম গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তন করেছেন। বাকি ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্ক্রিয় করা হয়নি, তাই সেগুলো আজ থেকে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।
এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা তিন মাস সময় দিয়েছিলাম ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে, কিন্তু যেসব গ্রাহক এটি করেন নাই তাদের সক্রিয় সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করা হবে। আজ কি পরিমাণ সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন হয়নি সেটা দেখে বাতিল করা হবে।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমানে গ্রাহকপ্রতি ১০টির ওপরে সিম ছিল ৬৭ লাখ। এর মধ্যে গত ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১৪ লাখ সিম স্বেচ্ছায় গ্রাহকরা ফেরত দিয়েছেন। বাকি ৫৩ লাখের মধ্যে গত ১৫ দিনে আরও প্রায় ৩ লাখ সিম এসেছে। ফলে ৫০ লাখের মতো সিমের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।”
সিম ব্যবহারে বিশ্বে নবম বাংলাদেশ
বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি ও শিল্পের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিইআইসি-এর সর্বশেষ তথ্যমতে, সক্রিয় মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে নবম। অক্টোবরে বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার।
এই তালিকায় শীর্ষে থাকা চীনে ১৬১ কোটি এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে ১৫১ কোটি সিম ব্যবহৃত হয়। সিম ব্যবহারে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মানুষের অসচেতনতা, ১৮ বছরের কম বয়সীদের মোবাইল ব্যবহার এবং দুষ্কৃতিকারীদের অপব্যবহারের কারণে সিমের সংখ্যা বেড়েছে। অসচেতন মানুষের এনআইডি ও বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে অপরাধীরা সিম নিবন্ধন করছে। এছাড়া অপারেটররাও বেশি লাভের আশায় নানা অফার দেখিয়ে সিম বিক্রি করায় এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের পর আগামী বছর গ্রাহকপ্রতি নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা আরও কমিয়ে পাঁচটিতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।





















