একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০টি সক্রিয় সিম রাখার নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল (১ নভেম্বর) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ১০টির বেশি নিবন্ধিত অতিরিক্ত সিমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
বিটিআরসি দাবি করছে, অতিরিক্ত সিম ব্যবহার করে প্রতারণাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা, সাইবার জালিয়াতি রোধ এবং আগামী নির্বাচনের আগে সিমের অপব্যবহার ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশে অন্তত ৫০ লাখের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৫০ লাখ সিম বন্ধের প্রক্রিয়া
গত ১৯ মে বিটিআরসির কমিশন সভায় এক ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ সিমের সংখ্যা ১৫ থেকে কমিয়ে ১০টিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত আগস্টে বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে যাদের নামে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত আছে, তাদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অতিরিক্ত সিম বাতিল (ডি-রেজিস্টার) করার জন্য তিন মাস সময় দিয়েছিল।
বিটিআরসির তথ্যমতে, ওই সময়ে ২৬ লাখ গ্রাহকের নামে ৬৭ লাখ সিম অতিরিক্ত ছিল (১০টির বেশি)। গত তিন মাসে গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ সিম বাতিল করেছেন। বাকি ৫০-৫৩ লাখ সিম যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্ক্রিয় করা হয়নি, তাই সেগুলো অপারেটরদের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এমদাদুল বারী গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “অতিরিক্ত সিম বন্ধ করতে ১ নভেম্বর থেকে কাজ করবে বিটিআরসি। এই কাজ ধাপে ধাপে করা হবে। অপারেটরগুলোকে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করতে বলা হবে। এক্ষেত্রে অপারেটরগুলো সবচেয়ে কম ব্যবহৃত সিমটি আগে বন্ধ করে দেবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ, অপারেটরদের আপত্তি
বিটিআরসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “ধাপে ধাপে একক ব্যক্তির নামে সিমের সংখ্যা আরও কমিয়ে (পাঁচে) আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে (সিমের সংখ্যা কমানোর) চাপ রয়েছে।”
তিনি অপারেটরদের আপত্তির জবাবে বলেন, “অতিরিক্ত সিম দিয়ে ভেহিকেল ট্র্যাকারসহ বিভিন্ন ধরনের আইওটি ডিভাইস চালানো হতো। তবে এখন আইওটি সিমগুলো একেবারেই আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিগত নামে অতিরিক্ত সিম রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
তবে মোবাইল অপারেটররা বলছেন, সিমের সংখ্যা কমালেই যে অপরাধ কমবে এই ধারণা ঠিক নয়। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, “সিম সংখ্যা কমিয়ে আনলেই অপরাধ দমন হবে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। প্রতারণা কীভাবে কমানো যাবে, সেদিকে নজর দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মতো ছোট গ্রাহকদের (অপারেটর) ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
সিম ব্যবহারে বিশ্বে নবম বাংলাদেশ
বিটিআরসির মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার হলেও বিক্রি হওয়া মোট সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬২ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের নামে পাঁচটি বা তার কম সিম রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ) সংরক্ষণ করে তা দিয়ে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করে, যা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীতা ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
গ্রাহকরা *১৬০০১# নম্বরে ডায়াল করে নিজের এনআইডির বিপরীতে কয়টি সিম নিবন্ধিত আছে, তা সহজেই যাচাই করতে পারবেন এবং অতিরিক্ত সিম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে ‘ডি-রেজিস্টার’ করতে পারবেন।






















