সরকার টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সেবার মান বাড়ানো এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে । এর মাধ্যমে ২০১০ সালের জটিল আইএলডিটিএস (ILDTS) নীতি বাতিল করে আইজিডব্লিউ (IGW), আইআইজি (IIG), এবং আইসিএক্স (ICX) এর মতো স্তরগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে ।
কিন্তু এই নীতিমালার খসড়া গাইডলাইন প্রকাশের পরই এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। সোমবার (৩ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, নতুন নিয়মে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং মোবাইল অপারেটরদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় দেশীয় আইএসপি উদ্যোক্তারা ধ্বংসের মুখে পড়বেন ।
গ্রাহক পর্যায়ে খরচ বাড়ার শঙ্কা আইএসপিএবি’র নেতারা জানান, নতুন খসড়া গাইডলাইনটির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ গ্রাহকের ওপর । তারা বলেন, আইএসপি অপারেটরদের ওপর নতুন করে ৫.৫ শতাংশ রেভিনিউ শেয়ারিং এবং ১ শতাংশ সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ড (এসওএফ) আরোপ করা হয়েছে । এই অতিরিক্ত ফি ও চার্জের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবার খরচ অতিরিক্ত প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং অপারেটরদের ক্রয়মূল্য ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে ।
আইএসপিএবি গ্রাহকদের উদ্দেশে বলে, “আমরা আপনাদেরকেই সেবা দিচ্ছি। এই দাবি/প্রতিবাদ আপনাদের জন্য…। আমাদেরকে দোষারোপ করবেন না।” । সংগঠনটি এই অযৌক্তিক ফি বাতিলের দাবি জানিয়েছে ।
‘অসম’ প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় উদ্যোক্তারা আইএসপিএবি’র সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো, মোবাইল ফোন অপারেটরদের (এমএনও) ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া। সংগঠনটি অভিযোগ করে, প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালার আড়ালে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে ফিক্সড ওয়্যারলেস একসেস (FWA) (যেমন- জিপিফাই, রবি-ওয়াইফাই) এবং সরাসরি লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগের মাধ্যমে ফিক্সড কানেক্টিভিটি দেওয়ার স্পষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ।
আইএসপিএবি মনে করে, এটি নিজস্ব বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশীয় আইএসপিগুলোর জন্য একটি “চরম অসম প্রতিযোগিতা” সৃষ্টি করবে এবং দেশীয় বিনিয়োগকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলবে ।
আইএসপিএবি’র সুনির্দিষ্ট দাবি সংগঠনটি এই “অসম” প্রতিযোগিতা বন্ধে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো:
- সেলুলার মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএমএসপি) গাইডলাইন থেকে এফডাব্লিউএ (ফিক্সড ওয়্যারলেস একসেস) এবং হটস্পট কানেক্টিভিটি অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি বাতিল করা ।
- সিএমএসপি গাইডলাইন থেকে হোম/অফিস/ইনডোর প্রাঙ্গনে ফাইবার কানেক্টিভিটি ডেপ্লয় করার অনুমতি বাতিল করা ।
- এফটিএসপি (ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার) গাইডলাইন থেকে ৫.৫% রেভিনিউ শেয়ারিং ও ১% সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ড (এসওএফ) বাতিল বা পুনর্বিবেচনা করা ।
- জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের এফটিএসপি লাইসেন্সের মধ্যে সার্ভিস বৈষম্য না রাখা ।
নীতির লক্ষ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ অন্যদিকে, গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেটে বলা হয়েছে, ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৫’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো পুরনো ও খণ্ডিত কাঠামো বাতিল করা । নতুন নীতির লক্ষ্য একটি “ব্যবসা-বান্ধব এবং উদ্ভাবন-চালিত লাইসেন্সিং কাঠামো” তৈরি করা , যা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য “সমান সুযোগের ক্ষেত্র” তৈরি করবে এবং সেবার মান বাড়িয়ে গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা নিশ্চিত করবে ।
তবে আইএসপিএবি’র নেতারা বলছেন, এই নীতি দেশীয় উদ্যোক্তাদের ধ্বংস করবে। তারা ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ‘জনগণের সরকার’ ও দেশের সব রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই সেবাখাত এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের বাঁচিয়ে রাখা যায় ।






















