রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের প্রযুক্তি ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে একদল বিক্ষোভকারী এই হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। তারা ‘গ্রে মার্কেট’ বা অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে কিছু বিক্ষোভকারী ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর চড়াও হন।
হামলাকারীরা বিটিআরসি ভবনের নিচতলার অভ্যর্থনা কক্ষের কাঁচ ভাঙচুর করে। এ সময় ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি সরকারি গাড়ি ও মোটরসাইকেলেও তারা হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এনইআইআর চালু হওয়ার ফলে চোরাচালানি চক্রের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত লেগেছে। আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তথ্য জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়েছি, কিন্তু আজ যারা হামলা করেছে তারা মূলত একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের অংশ। কোনো ধরনের সহিংসতা আমাদের এই প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে নিতে পারবে না।”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জানান, “ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের দায়ে ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশ থেকে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”
হামলার পর আগারগাঁও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে বিটিআরসি ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এনইআইআর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।






















