চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও তমাকুণ্ড লেনের হাজার কোটি টাকার অবৈধ মোবাইল বাণিজ্যের নেপথ্য কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে এক প্রভাবশালী নাম—আরিফুর রহমান। তিনি একাধারে তমাকুণ্ড লেন মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতি এবং চট্টগ্রাম মেট্রো মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক দশকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় তিনি গড়ে তুলেছেন মোবাইল এবং স্বর্ণ চোরাচালানের এক দুর্ভেদ্য সিন্ডিকেট।

আরিফুর রহমান নিজেকে ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক মহলে তিনি আওয়ামী লীগ পন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। বিগত সরকারের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের সাথে তার বিশেষ সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি রিয়াজউদ্দিন বাজারকে অবৈধ মোবাইল ও চোরাচালানের নিরাপদ স্বর্গে পরিণত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া এই এলাকায় কোনো চোরাই মাল প্রবেশ বা খালাস করা সম্ভব নয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আরিফুর রহমানের সিন্ডিকেট কেবল মোবাইলেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্বর্ণের বড় বড় চোরাচালান সিন্ডিকেটেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই অপরাধের দায়ে তিনি এর আগে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন। চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের টাকা তিনি অবৈধ মোবাইল আমদানিতে খাটাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত এনইআইআর (NEIR) বা মোবাইল নিবন্ধন ব্যবস্থা বন্ধ করতে রিয়াজউদ্দিন বাজারে যে আন্দোলন চলছে, তার প্রধান মদদদাতা ও অর্থ যোগানদাতা এই আরিফুর রহমান।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত সরকারের পতনের পর নিজের পিঠ বাঁচাতে আরিফুর রহমান এখন ভোলবদল করেছেন। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়েও তিনি এখন নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সমর্থক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। তবে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি তার স্রেফ একটি কৌশল যাতে তিনি তার অবৈধ চোরাচালান ব্যবসা এবং সভাপতির পদটি ধরে রাখতে পারেন।

সম্প্রতি বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা এবং চট্টগ্রামে বৈধ মোবাইল দোকানগুলোতে মব সৃষ্টি করে ভাঙচুর চালানোর নেপথ্যে আরিফুর রহমানের পরোক্ষ হাত রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। তার নেতৃত্বাধীন ‘মেট্রো মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতি’ মূলত চোরাচালানকৃত ফোনের বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করে। এনইআইআর পুরোপুরি কার্যকর হলে তার এই হাজার কোটি টাকার কালো ব্যবসা ধসে পড়বে, আর সেই আতঙ্ক থেকেই তিনি এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের উসকে দিচ্ছেন।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আরিফুর রহমান সাহেব আওয়ামী আমলে যা ইচ্ছা তাই করেছেন। আমরা তার সিন্ডিকেটের ভয়ে তটস্থ থাকি। তিনি নিজে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও আমাদের মতো সাধারণ দোকানদারদের বিপদে ঠেলে দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছেন।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর আরিফুর রহমানের সম্পদের উৎস এবং তার আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্ক নিয়ে পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারত ও দুবাই থেকে আসা ‘রিফারবিশড আইফোন’ সিন্ডিকেটে তার ভূমিকার বিষয়টি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।






















