শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। রয়টার্স ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান যাতে কোনো পাল্টা হামলার সুযোগ না পায়, সেজন্য ইসরায়েল একটি ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম বা সতর্কতামূলক হামলা চালিয়েছে।
১. দেশজুড়ে সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক
ইসরায়েলী হোম ফ্রন্ট কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার ভোরে ইসরায়েলের প্রায় সমস্ত এলাকায় বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। জেরুজালেম থেকে তেল আবিব—পুরো দেশ এখন এক অস্থির নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাইরেনের এই দেশব্যাপী আওয়াজ নির্দেশ করছে যে, ইরানও হয়তো ইতিমধ্যে ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে।
২. প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
ইসরায়েলী প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই হামলার খবর নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা ইরানের বিরুদ্ধে একটি পূর্ব-আক্রমণাত্মক (Pre-emptive) আক্রমণ শুরু করেছি।” সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল বেসগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩. কেন এই আগাম হামলা?
গত কয়েকদিন ধরেই জর্ডান সীমান্তে মার্কিন সেনাদের মুভমেন্ট এবং ওমান সাগরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল দাবি করে আসছিল যে, ইরান তাদের ওপর একটি বিশাল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই হামলা রুখতেই ইসরায়েল আগেভাগে ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
৪. ওমান সাগরের ‘লুইয়াং’ ও আঞ্চলিক প্রভাব
এই হামলার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ওমান সাগরে চীনের গোয়েন্দা জাহাজ এবং রুশ নৌবাহিনীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান যদি এই হামলার জবাবে তাদের হাইপারসোনিক ‘ফাত্তাহ’ মিসাইল ব্যবহার করে, তবে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
ইসরায়েলের এই সরাসরি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল। আমেরিকা সরাসরি ইসরায়েলের সমর্থনে এগিয়ে আসবে নাকি চীন ও রাশিয়া ইরানকে রক্ষা করতে বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে, তা আগামী কয়েক ঘণ্টাতেই পরিষ্কার হবে। তবে এই মুহূর্তে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।



















