রাজধানীতে অবৈধ মোবাইল কারখানা: চায়নিজ চক্রের হাত ধরে তৈরি হচ্ছে নকল আইফোন ও স্যামসাং
চকচকে বক্সে নামিদামি ব্র্যান্ডের সিল, ভেতরে ভুয়া আইএমইআই (IMEI) নম্বর—বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে ফোনটি আসল নাকি নকল। রাজধানীর তুরাগ ও উত্তরা এলাকায় সম্প্রতি ডিবির অভিযানে এমন সব কারখানার সন্ধান মিলেছে, যেখানে চিনের কারিগরি সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ মোবাইল তৈরির কারখানা।
যেভাবে কাজ করছে চায়নিজ সিন্ডিকেট
ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিনের একটি বিশেষ চক্র ৫-৭ দিনের জন্য বাংলাদেশে আসে। তারা তুরাগ বা উত্তরার মতো এলাকার ভাড়া বাসায় গোপনে অবস্থান করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে চোরাই পথে আসা পার্টস দিয়ে কয়েক হাজার স্মার্টফোন সেটআপ করে দিয়ে আবার নিজ দেশে ফিরে যায়।
যন্ত্রাংশ আসে যেভাবে: লাগেজের মাধ্যমে বা সীমান্তের চোরাই পথে এসব পার্টস বাংলাদেশে ঢোকানো হয়।
বিক্রির কৌশল: এসব ফোন আসল দামের তুলনায় অর্ধেক দামে বিভিন্ন শপিং মলে সরবরাহ করা হয়। অধিক লাভের আশায় দোকানদাররাও এসব ফোন লুফে নেয়।
তুরাগে বিশাল মজুত জব্দ
গত ১২ এপ্রিল ডিবির মতিঝিল বিভাগ তুরাগের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে স্যামসাং এস-২৫ আল্ট্রা, রেডমি ১৩-সি, ভিভো ওয়াই-১৭ সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েকশ নকল ফোন এবং সাড়ে ৩ হাজার খালি বক্স জব্দ করা হয়। এছাড়াও আইএমইআই ছাপানোর মেশিন ও কয়েক হাজার ডিসপ্লে ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
নিরাপত্তা ও রাজস্ব ঝুঁকি
১. শনাক্ত করা অসম্ভব: এসব ফোনের আইএমইআই নম্বর ভুয়া হওয়ায় বিটিআরসি-র এনইআইআর (NEIR) ডাটাবেজে এগুলো অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। অপরাধীরা এসব ফোন ব্যবহার করলে তাদের ট্র্যাক করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
২. রাজস্ব ক্ষতি: শুল্ক ফাঁকি দিয়ে যন্ত্রাংশ আনায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
৩. বিস্ফোরণ ঝুঁকি: নকল ব্যাটারি ও চার্জার ব্যবহারের ফলে যেকোনো সময় ফোনটি বিস্ফোরিত হয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
ডিবির মতিঝিল বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার জানান, নকল ফোন তৈরির এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক দেশি-বিদেশি নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকা থেকেও আইফোন সংযোজনকারী তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে ‘টেকজুম টিভি’-র পরামর্শ:
স্মার্টফোন কেনার সময় অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:
আইএমইআই যাচাই: ফোনের বক্সের আইএমইআই নম্বরটি বিটিআরসি-র ডাটাবেজে পাঠিয়ে চেক করুন।
অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি: শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্র্যান্ড শপ বা ডিলার থেকে ফোন কিনুন।
অস্বাভাবিক কম দাম: কোনো দামী ফোন যদি অবিশ্বাস্য কম দামে অফার করা হয়, তবে সেটি নকল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বক্স ও স্টিকার: বক্সের ফিনিশিং এবং স্টিকারের লেখা খুব সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করুন।



















