ইরানের রাজধানী তেহরান এখন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো মঙ্গলবার ও শনিবারের ধারাবাহিকতায় তেহরানের আকাশসীমায় ঢুকে পিন-পয়েন্ট এক্যুরেসিতে একের পর এক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থার পাঁচটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এখন ধ্বংসের মুখে।
১. তেহরানে নিশ্চিতকৃত লক্ষ্যবস্তুসমূহ:
গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়: ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির সামরিক কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় (Supreme Leader’s Office): সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর হলো, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এটি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (AEOI): ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান কেন্দ্রটিতে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর ফলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পারচিন (Parchin) সামরিক কমপ্লেক্স: তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত বিতর্কিত পারচিন সামরিক ঘাঁটি, যেখানে ইরান তাদের উন্নত মিসাইল ও বিস্ফোরক পরীক্ষা করে থাকে, সেখানেও ভয়াবহ অগ্নিপিণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
২. মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযান
ইসরায়েলি মিডিয়া এবং পেন্টাগন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন B-2 Stealth Bomber এবং ইসরায়েলি F-35 Adir যুদ্ধবিমানগুলো যৌথভাবে অংশ নিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলো এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যাতে ইরানের পাল্টা আঘাত করার ক্ষমতা (Retaliation capability) চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়।
৩. ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তেহরানের আকাশে ইরানের Bavar-373 এবং রুশ নির্মিত S-300 সিস্টেমগুলো সক্রিয় থাকলেও, স্টিলথ প্রযুক্তির কাছে সেগুলো কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের আইআরজিসি (IRGC) ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, এই হামলার প্রতিটি ইঞ্চির বদলা নেওয়া হবে এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন আর নিরাপদ নয়।
৪. বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
রাশিয়া এবং চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওমান সাগরে থাকা রুশ নৌবহর এবং চীনের গোয়েন্দা জাহাজগুলো এখন হাই-অ্যালার্টে রয়েছে। বিশ্ববাজার হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামাতে পারে।
তেহরানের এই সরাসরি পতন বা আঘাতের অর্থ হলো—ইরান এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এবং পারমাণবিক সংস্থায় হামলা নির্দেশ করে যে, আমেরিকা ও ইসরায়েল এবার ইরান সরকারকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চায়। আগামী কয়েক ঘণ্টা নির্ধারণ করবে পৃথিবী কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে কি না।





















