ত্রুটির ফলে চলন্ত অবস্থায় ট্রেলার ব্রেক অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর ফক্স বিজনেস।
উল্লেখ্য, ট্রেলার ব্রেক হলো ট্রাক বা গাড়ির পেছনে যুক্ত ট্রেলারকে আলাদা করে গতি কমানোর ব্যবস্থা। এটি ট্রেলারকে হঠাৎ ধাক্কা দেয়া বা নিয়ন্ত্রণ হারানো থেকে রক্ষা করে।
ফোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাড়ি ফিরিয়ে নেয়ার আওতায় রয়েছে ২০২১-২৬ মডেলের জনপ্রিয় এফ-১৫০ সিরিজ। এছাড়া ২০২২-২৬ মডেলের সুপার ডিউটি ট্রাক, ২০২৪-২৬ মডেলের রেঞ্জার এবং ২০২২-২৬ মডেলের এক্সপিডিশন, ম্যাভেরিক ও লিঙ্কন নেভিগেটর মডেলের গাড়িগুলোও তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ মডেলের ট্রানজিট যানবাহনগুলোকেও রিকল নোটিসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফোর্ড জানিয়েছে, গাড়ি দিয়ে কোনো ট্রেলার টানার সময় এর ইন্টিগ্রেটেড ট্রেলার মডিউল মূল যানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। ফলে ট্রেলারের ব্রেক ও টার্ন সিগন্যাল লাইট অকেজো হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্রেক ফাংশনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে অধিকাংশ গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যাবে। এসব আপডেট ‘ওভার দি এয়ার’ (ওটিএ) অর্থাৎ অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি গাড়িতে অথবা ডিলারশিপ ও মোবাইল সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে। আগামী মে মাসের মধ্যে সব ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনে এ আপডেট পৌঁছে যাবে বলে আশা করছে ফোর্ড।
ফোর্ড গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ পদক্ষেপের আগে ‘এক্সপ্লোরার এসইউভি’ নিয়েও বড় ধরনের রিকলের ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৭-১৯ মডেলের প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ফোর্ড এক্সপ্লোরার এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। মূলত গাড়ির পেছনের সাসপেনশনের ‘টো লিংক’ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, গাড়ির পেছনের চাকাগুলোর সঠিক অ্যালাইনমেন্ট বা ভারসাম্য বজায় রাখতে টো লিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি কোনো কারণে যন্ত্রাংশটি ভেঙে যায়, তবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ফোর্ড পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কোম্পানিটি আরো ৪০ হাজার ৬৫৫টি গাড়ি ফেরত নিচ্ছে। ব্যাটারি অকেজো হয়ে পড়া এবং ব্রেক প্যাডেলের ত্রুটি সারিয়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মতে, এসব ত্রুটি চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৫ সালটি ফোর্ডের জন্য বেশ উদ্বেগের ছিল। বছর শেষ হওয়ার কয়েক মাস বাকি থাকতেই প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড ১০৩টি ‘সেফটি রিকল’ (নিরাপত্তাজনিত পণ্যের ফেরত) ঘোষণা করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির পূর্ববর্তী সব বার্ষিক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।






















