ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখন আর কেবল দুই দেশের সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটে ওঠে:
১. সামরিক লক্ষ্য ও আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল
পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে তার উৎসেই পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি ড্রোন মোকাবিলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটেন এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে।
এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট—ইউক্রেনীয় রণক্ষেত্রের শিক্ষাকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে প্রয়োগ করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কার্যকারিতা শূন্যে নামিয়ে আনা।
২. নৌ-তৎপরতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ঝুঁকি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর এবং পারস্য উপসাগরে তাদের নৌ-উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ওমান উপকূলের কাছে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।
জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি এখন সরাসরি যুদ্ধের ময়দান। এছাড়া পালটা হামলায় ইরানের নিজস্ব জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হবে।
৩. যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তার ও নতুন ফ্রন্ট
সংঘাতের পরিধি সাইপ্রাস থেকে শুরু করে ইরাক ও লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা এবং সাইপ্রাসের দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা সামরিক লজিস্টিক সেন্টারগুলো এখন সরাসরি নিশানায়।
অন্যদিকে, লেবানন থেকে হাইফার দিকে রকেট বর্ষণ এবং ইরাকি ‘প্রতিরোধ’ গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান একাধিক ফ্রন্ট খুলে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে ব্যস্ত রাখার ‘মাল্টি-অ্যাক্সিস’ কৌশল নিয়েছে।
৪. কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ
আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরণের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরান থেকে তাদের কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়া ইরানের সাথে আরব দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান আস্থার সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে অস্থিরতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
৫. বৈশ্বিক পরাশক্তির নীরবতা
রাশিয়া ও চীন এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও তাদের রহস্যজনক নীরবতা ইরানের অবস্থানকে পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগাচ্ছে। তারা ইরানকে থামানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বরং পশ্চিমাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রাখছে।






















