দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানপ্লাস (OnePlus) ও রিয়েলমিকে (Realme) আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তাদের মূল প্রতিষ্ঠান অপো (Oppo)। অভ্যন্তরীণ এক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্র্যান্ড দুটিকে এখন থেকে একটি একক ‘সাব-সিরিজ বিজনেস ইউনিট’ হিসেবে পরিচালনা করবে চীনা এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ওয়ানপ্লাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল, এমনকি ব্র্যান্ডটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও রটেছিল। তবে নতুন এই কাঠামোগত পরিবর্তন ওয়ানপ্লাসকে টিকিয়ে রাখলেও এর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব এবং কৌশলগত পরিচালনায় আমূল পরিবর্তন আনছে।
নেতৃত্বে বড় রদবদল
অপোর এই নতুন বিজনেস ইউনিটের নেতৃত্বে থাকছেন রিয়েলমির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও স্কাই লি (Sky Li)। মার্কেটিং ও সার্ভিস সিস্টেমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রিয়েলমির গ্লোবাল মার্কেটিং প্রধান সু চি-কে (Xu Qi), যিনি এখন থেকে ওয়ানপ্লাস ও রিয়েলমি—উভয় ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক বিপণন ব্যবস্থা তদারকি করবেন।
পণ্য উন্নয়ন বা প্রোডাক্ট সাইডেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ওয়ানপ্লাস ও রিয়েলমির জন্য একটি সম্মিলিত ‘প্রোডাক্ট সেন্টার’ তৈরি করেছে অপো, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ওয়ানপ্লাস চায়নার প্রেসিডেন্ট লি জি। তিনি সরাসরি ওয়ানপ্লাসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে অপোর চিফ প্রোডাক্ট অফিসার পিট লাউ-এর (Pete Lau) কাছে রিপোর্ট করবেন। এছাড়া রিয়েলমির সাবেক নির্বাহী ওয়াং ওয়েইকে এই ইউনিটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং ও আরঅ্যান্ডডি-র একীভূতকরণ
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে কারিগরি বিভাগে। রিয়েলমির নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) বিভাগটিকে সম্পূর্ণভাবে অপোর মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ইমেজ প্রসেসিং, হার্ডওয়্যার ডিজাইন এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল বিভাগগুলো এখন থেকে স্বাধীনভাবে কাজ না করে সরাসরি অপোর সিস্টেমের অধীনে পরিচালিত হবে।
সেবা ও পরিকাঠামোয় সমন্বয়
এই একীভূতকরণের আলামত এর আগেই দেখা গিয়েছিল। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে চীনে রিয়েলমির আফটার-সেলস সার্ভিস বা বিক্রয়োত্তর সেবা পরিচালনার দায়িত্ব নেয় অপোর নেটওয়ার্ক। এখন থেকে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং আইওটি (IoT) পণ্যসহ সব ডিভাইসের জন্য গ্রাহকরা একই সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা পাবেন। এমনকি রিয়েলমি তাদের সদর দপ্তরও অপোর প্রধান কার্যালয়ে সরিয়ে নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী?
দীর্ঘমেয়াদে ওয়ানপ্লাস বা রিয়েলমি তাদের ব্র্যান্ডিং কতটা স্বতন্ত্র রাখতে পারবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্মার্টফোন বাজারের সংকোচন এবং ক্রমবর্ধমান খরচ সামাল দিতেই এই ‘মেগা মার্জার’-এর পথে হেঁটেছে অপো। আলাদা আলাদা বিভাগ চালানোর বদলে শেয়ারড রিসোর্স বা সম্মিলিত সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোই এখন প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। ওয়ানপ্লাসের প্রিমিয়াম ইমেজ এবং রিয়েলমির সাশ্রয়ী ইমেজের এই সংমিশ্রণ গ্রাহকদের অভিজ্ঞতায় কেমন প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।


















